Home / উপজেলা সংবাদ / চাঁদপুর সদর / চাঁদপুর সদরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থা, বৃষ্টি হলে ক্লাস করতে হয় বারান্দায়

চাঁদপুর সদরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থা, বৃষ্টি হলে ক্লাস করতে হয় বারান্দায়

সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান করছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ। শিক্ষকদের জন্য কোন প্রকার অফিস কক্ষ না থাকার কারণে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষকে ব্যবহার করছেন শিক্ষকদের অফিস রুম। অন্যদিকে বৃষ্টি হলে শ্রেণীকক্ষ বাদ দিয়ে বিদ্যালয় এর বারান্দায় এনে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে করতে হচ্ছে ক্লাস।

চাঁদপুর জেলার ১ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৩ নং দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থা । দীর্ঘ বছর যাবত এই বিদ্যালয় কোন প্রকার উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।ফলে জরাজীর্ণ এই ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই বিদ্যালয়ে ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র তিনটি। অন্যদিকে শিক্ষকদের নেই কোন নিজস্ব অফিস রুম। প্রাক প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষকে শিক্ষকরা অফিস রুম হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মনিকা রানী বিশ্বাস এর সাথে আলাপ করলে তিনি জানান আমাদের এই বিদ্যালয়টি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বিদ্যালয়ের প্রধান রয়েছে শ্রেণিকক্ষের উপরের সিলিং ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে বৃষ্টি হলে উক্ত সিলিং দিয়ে শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি পড়ে। ফলে বৃষ্টির সময় বাধ্য হয়ে আমাদেরকে শ্রেণিকক্ষের বাহিরে বারান্দার মধ্যে ক্লাস নিতে হয়। তিনি আরো বলেন বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষের উপরের সিলিং খসে পড়ে শুধুমাত্র রোড দেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে ফলে আমরা শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় কখন সিলিং উপর থেকে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে বিদ্যালয়ের পাশেই আরেকটি পুরাতন এবং জোড় চিহ্ন ভবন রয়েছে যেটা ১৯৯৪ সালে ভবনটি করা হয়েছিল। উক্ত ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ার কারণে পাশেই আরেকটি ভবন করা হয়। বর্তমানে আমরা নতুন ভবনটিতে ক্লাস করছি। এই নতুন ভবনটি ২০০৮ সালে পিডিবি ২ এর আওতায় করা হয়েছিল। বর্তমানে এই ভবনটিও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে ।

বিদ্যালয় মোট তিনটি শ্রেণিকক্ষ থাকার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করাতে খুবই সমস্যা করতে হয়। আমাদের বিদ্যালয় এর খেলার মাঠ টি খুবই ছোট। বিদ্যালয়ের সামনে একটি খালি জায়গা রয়েছে উক্ত জায়গাটি মাটি দিয়ে ভরাট করলে বিদ্যালয়ের মাটি আরো প্রশস্ত হবে এবং বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য উপকার হবে।
তিনি আরো বলেন আমাদের পুরাতন যে ভবনটি রয়েছে সেটি বর্তমানে মদিনা ডেকোরেটর নামক একটি ডেকোরেটরের মালামাল রেখে দখল করে রেখেছে। আমরা বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘ বছর যাবত উক্ত স্থানে মালামাল রেখে আসছেন।

উক্ত জরাজীর্ণ এই ভবনটি পুনঃনির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ নজর দিবেন বলে এলাকাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

স্টাফ করেসপন্ডেট/ ১৬ জুন ২০২৬