চাঁদপুরে জোরপূর্বক প্রবাসী পরিবারের বাড়ির প্রবেশ পথসহ সামনের পুরো জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী এবং তার ছেলেরা প্রবাসে থাকায় বহু দেনদরবার করেও ১২ বছর ধরে তারা ওই জমি দখল মুক্ত করতে পারেনি। অবশেষে দখলকৃত জমি উদ্ধারে ফের আইনি সহায়তা চেয়ে (ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ এর ৭,৮ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেছি ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবার। ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের বাংলাবাজার গরুর হাট সংলগ্ন এলাকায়।
সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাখরপুর কবিরাজ বাড়ির মৃত ইদ্রিস কবিরাজের পুত্র মোঃ মোক্তার কবিরাজ প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে ৩০ শতক জমি ক্রয় করেন। যা সিএস ৯৯, আরএস ১০৫ এবং বিএস ৪৭ নং খতিয়ান ভুক্ত । একই মালিকের কাছ থেকে তার প্রতিবেশী জিতু মিয়া কবিরাজ পূর্ব অংশের ৬ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। কিন্তু জিতু মিয়া কবিরাজ ওই জমির রাস্তার পাশের পুরো সামনের অংশটি দখল করে সেখানে একটি মার্কেট নির্মাণ করেন। শুধু তাই নয়, মুক্তার কবিরাজের বাড়িতে প্রবেশের কোন রাস্তাও রাখেনি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুক্তার কবিরাজ বলেন, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে কষ্টে উপার্জিত টাকা দিয়ে এই জমিটা কিনেছি। আমার দুই ছেলেও বিদেশ থাকতো। এই সুযোগে জিতু মিয়া কবিরাজ এক পাশের জায়গা না নিয়ে রাস্তার সামনের পুরো জায়গাটি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করে। তিনি ওই সময়ে হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে আমাদের উপরেই জুলুম অত্যাচার করেছে। তাদের অত্যাচারে আমি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বাড়িতে প্রবেশ করতে পারিনি।
ভুক্তভোগী মুক্তার কবিরাজ আরো বলেন, জিতু মিয়া কবিরাজ মারা যাওয়ার আগে তিনি নিজের এই অন্যায়ের কথা স্বীকার করে গেছেন। শুধু তাই নয় আমাদেরকে জমিটি ফেরত দেওয়ার কথাও বলেছেন। কিন্তু মৃত্যুর পরে তার ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং ভাতিজা মো. আলাউদ্দিন ও মো. সিরাজ গংরা জমিটি এখনো দখল করে রেখেছেন। আমি মহামান্য আদালত এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি। পাশাপাশি আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেবের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে মার্কেট এলাকায় পাওয়া যায়নি। তবে জমির মূল মালিক আনোয়ারা বেগমের মেয়ে আমেনা বেগম বলেন, আমার মা বার্ধক্য জনিত অসুখে বিছানায় শয্যাশায়ী। তবে আমরা জানি যে আমার মা মুক্তার কবিরাজ-এর কাছে ৩০ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। অমীমাংসিত বিষয়টি সমাধান হোক এটি আমরাও চাই।
প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/
১৪ আগস্ট ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur