চাঁদপুর

চাঁদপুর বিজয় মেলায় স্মৃতিচারণে যা বললেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু

শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু চাঁদপুর বিজয় মেলার আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে হয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় মেলার ২০তম দিন বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশের পটভূমি শীর্ষক আলোচনা সভায় ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যা শেখ হাসিনা আজকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারনে আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের কথা বলতে পারি। বিজয়ের কারিগর ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি কখনও পাকিস্তানকে বিশ্বাস করতেন না। বঙ্গবন্ধু মানুষ ও দেশের কথা বলতেন বলেই তার কথায় সাড়া দিয়ে বাঙ্গালীরা জাপিয়ে পড়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু যেখানে ভাষন দিতেন সেখানেই গ্রেফতার হতেন। তারপরও তাকে থামিয়ে রাখা যায় নি। ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের সম্পদ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্বীকৃতি পাবে। এটা আমাদের বিশ্বাস।

মন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল এ দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসকে মূছে দেওয়া। শেখ হাসিনা ব্যক্তি হিসাবে কারো শত্রæ নয়। রাজাকার আলবদরদের শত্রæ। তাই তাকেও বারবার হত্যা চেষ্টা করা হয়। আজকে ১৬ কোটি মানুষের মুখে অন্য জোগাচ্ছেন শেখ হাসিনা। এটা ছিল জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বপ্ন। শেখ হাসিনা বেঁেচ আছেন বলেই আজ আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হচ্ছি।

স্মৃতিচারণে বলেন, ১৯৬৫ সালে যখন ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হয়েছিল। ভারত যখন পাকিস্তানের উপর আক্রমণ করে। তখন পাকিস্তানিরা ভারতের দালাল বলে আমাদের গালাগাল করতে থাকে। তখন আমরা বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে বিষয়টি বললাম। তখন বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে বললেন ৭দিন ১০দিন গাল খাবে। তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী বঙ্গবন্ধু কে অনেক ভালবাসতেন। তিনি বলেছিলেন আমার জীবনে বঙ্গবন্ধুর মত নেতাকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু ছাড়া এমন কোন নেতা নেই যার নেতৃত্বে সাড়ে ৭কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। অনেকে অনেক কিছু বলেন। ’

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি এমপি বলেন, ২৬ বছরের ইতিহাসে চাঁদপুরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচরকে পেয়ে আমরা চাঁদপুরবাসী আনন্দিত। এই স্মৃতি আমরা চিরদিন মনে রাখবো। তিনি সারা বাংলাদেশে বহু নেতা তৈরি করেছেন। বহু কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। চাঁদপুরেও তিনি কয়েকবার এসেছেন। চাঁদপুরের অনেককেই তিনি চেনেন।

আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করে আওয়ামীলীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহŸান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৪ আসনের সাংসদ ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া এমপি বলেন, আমরা সকলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক সৈনিক। আগামী জাতীয় নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চাঁদপুরের ৫টি আসন উপহার দেব। এই হোক আজকে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে আমাদের শপথ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মন্ডল, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরন, উদযাপন পরিষদের মহাসচিব হারুন আল রশিদ ও যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার পরিচালনায় বিজয় মেলার উপদেষ্টা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা হানিফ পাটওয়ারী, উদযাপন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামছুল হক মন্টু পাটওয়ারী, তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, যুগ্ম মহাসচিব আবু নাছের বাচ্চু পাটওয়ারী, অ্যাড. সায়েদুল ইসলাম বাবু, অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, মাহফুজুর রহমান টুটুল, সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, হুমায়ন কবির খান, আইয়ুব আলী বেপারী, আতাউর রহমান পারভেজ, মাঠ ও মঞ্চের আহŸায়ক ইয়াহিয়া কিরন, সদস্য সচিব জাফর ইকবাল মুন্নাসহ অনান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদক- মাজহারুল ইসলাম অনিক
: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১১:৫০ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার
ডিএইচ

Share