চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের আচার
ইদানিং শহরের প্রধান প্রধান সড়ক এবং বিভিন্ন অলিগলিতে ভ্যান গাড়ির মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে নিম্নমানের বিভিন্ন রকমের আচার। আচার তৈরীর এ সমস্ত কারখানায় গিয়ে দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নিম্নমানের জিনিসপত্র দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে লোভনীয় আচার। এদের মধ্যে পচা তেতুল এবং পচা বড়ই এবং চালতা সহ প্রায় ১০-১৫ আইটেমের আচার তৈরি করা হয়। এ সমস্ত আচারের সাথে নিম্নমানের গুড় এবং বিভিন্ন প্রকার কাপড়ের রং মিশিয়ে তৈরি করা হয় আচার। আচার তৈরি করার পর পরিপাটি করে সাজিয়ে এবং এমন ভাবে গাড়িগুলো তৈরি করে তারা উক্ত ভ্যান গাড়ি গুলো চারপাশে গ্লাস ফিটিং করে তার মধ্যে উক্ত আচারগুলো সাজিয়ে রাখা হয়। এবং উক্ত গাড়িগুলোতে লেখা থাকে ঐতিহ্যবাহী মুন্সীগঞ্জের আচার।
এ ব্যাপারে কারখানার মালিকের সাথে আলাপকালে তারা জানান তারা বিভিন্ন সময় মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন আচার কারখানায় কাজ করেছেন এবং সেখান থেকেই আচার তৈরীর নিয়ম-কানুন তারা শিখেছেন। তাই তারা চাঁদপুর এসে বিভিন্ন বাসা ভাড়া নিয়ে উক্ত আচার তৈরি করছেন এবং মুন্সীগঞ্জের নাম করে তা বিক্রি করছেন। তার আরো জানান মুন্সিগঞ্জের নামকরণের কারণ হলো মুন্সিগঞ্জের নাম শুনলে আচারগুলো বেশি বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি আচার ৫০০ টাকা করে তারা বিক্রি করে থাকেন। তারা আরো জানান যেহেতু রাস্তাঘাটে বিক্রি করা হয় সেহেতু পৌর কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। নিম্নমানের এই আচারগুলো প্রতিদিনই শহরের আনাচে-কানাচে বিক্রি করা হচ্ছে উক্ত আচারগুলো খেয়ে শিশু বাচ্চাদের এবং যারাই খাচ্ছে বেশিরভাগ মানুষেরই পেটের পীড়া সহ নানা সমস্যায় দেখা যায়। উক্ত আচারগুলো বিক্রি না হলে পরের দিন নতুন আচারের সাথে পুরান আচার মিলিয়ে তা আবার বিক্রি করা হয়। যার ফলে একই আচার মাসের পর মাস বিক্রি করা হয়। মুন্সীগঞ্জের নামকরণ করার কারণে অনেকেই ভাবে উক্ত আচারগুলো মুন্সিগঞ্জ থেকেই আসে। তাই অনেকেই নিম্নমানের এই আচারগুলো কিনে থাকেন। অভিজ্ঞ মহলের আশা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান করে উক্ত অবৈধ আচার কারখানা গুলো বন্ধ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্টাফ করেসপন্ডেট/ ৮ জুন ২০২৬