চাঁদপুরে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ৭৫ হাজার ২শ ৪৮ পশু। জেলায় প্রস্তত রয়েছে ৬৬ হাজার পশু। এতে দাপ্তরিক হিসেবে পশুর সংকট থাকবে ৯ হাজার ১শ ৫০ টি । তবে আশপাশের জেলার পশু হাটে উঠলে এ সংকট থাকবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। দাম ভালো দাম পাবার আশা করেন খামারিরা। এবার জেলার সকল উপজেলায় ২২৫টি বাজার থাকবে ।
১৭ মে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক এসব তথ্য জানান। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যে জানা যায়, জেলায় তালিকাভুক্ত খামারি রয়েছে ৩ হাজার ৫ শ ১৫ জন। খামারগুলোতে গরু উৎপাদন রয়েছে ৪৬ হাজার ২ শত ৮৩টি। ছাগল হয়েছে ১৯ হাজার ৩শ ৪৬টি, মহিষ ২৩টি, ভেড়া ৪শ ৪৬টি । সব মিলিয়ে মোট উৎপাদন হয়েছে ৬৬ হাজার ৯৮টি। কোরবানির জন্য গবাদি পশু প্রয়োজন ৭৫ হাজার ২শ ৪৮ টি। হিসেব মতে গবাদি পশু সংকট রয়েছে ৯ হাজার ১ শ ৫০টি। চলতি বছর জেলায় ষাঁড় গরু উৎপাদন হয়েছে ২৭ হাজার ৩শ ৪৬, বলদ ৮ হাজার ৩শ ৬৬টি , গাভী ১০ হাজার ৫শ ৭১ টি। সর্বমোট গরু উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার ২শ ৮৩টি।
স্থানীয় এক খামারি বলেন, অন্য জেলা থেকে পশু আসলেও স্থানীয়ভাবে পালিত কোরবানির পশুর চাহিদা বেশি। আমাদের খামারে নিজেদের উৎপাদিত ঘাস ও দানাদার খাদ্যে ষাঁড়গুলো কোরবানির প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে আমাদের সমস্যা হচ্ছে শ্রমিকের দৈনিক হাজিরা ও খাদ্যের দাম বেশি। বিক্রি মূল্যের উপর নির্ভর করবে আমাদের লাভ- লোকসান। এ ছাড়াও এলাকায় একাধিক খামারি রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাবারে এস ষাঁড় প্রস্তুত করেছে। তারা যদি ষাঁড়গুলোর দাম ভালো পায় তাহলে টিকে থাকতে পারবে। লোকসানে পড়লে খামারি সংখ্যা কমে যাবে এবং বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবে। গবাদি পশুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, খড়ের অপর্যাপ্ততা এবং শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকের ইচ্ছে থাকলেও গবাদিপশু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছে। খামারি তৈরি করার জন্য সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন।
চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, ‘ এ বছর আমরা কোরবানি প্রস্তুত করার জন্য সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছি। যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। আর পশুগুলো প্রাকৃতিক খাবারে বেড়ে উঠেছে।জাল টাকা সনাক্তকরণে প্রতিটি বাজারে মেশিন থাকবে-–যা প্রশাসন থেকে নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ জেলায় দুশ ২৫টি কোরবানির পশুর হাট বসার কথা রয়েছে। চাহিদার আলোকে কোনো ধরণের পশুই সংকট হবে না। কারণ কোরবানির হাটে অন্য জেলার পশু আসলে চাহিদা মিটে যায়। সংকট অবশ্য কাগজে কলমে। চাঁদপুরে প্রায় ৫শ ২০ মে.টন লবণ সরকারিভাবে বরাদ্দ রয়েছে। আগামি ১৯ মে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সভাকক্ষে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ কোরবানির পশুর হাটগুলোতে আর্থিক লেনদেন ও ক্রেতার নিরাপত্তায় পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও পুলিশের টহল সদস্যরাও কাজ করবে।
আবদুল গনি
১৭ মে ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur