চাঁদপুরে একের পর এক রেলওয়ে জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, ‘ম্যানেজ’ করে ছাদ ঢালাই
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও আইন প্রয়োগে কঠোরতা থাকার কথা থাকলেও চাঁদপুরে রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং সরাসরি “ম্যানেজ” করার অভিযোগে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
গত ২৫ এপ্রিল চাঁদপুর শহরের ক্লাব রোড এলাকায় ইসমাইল হোসেন নামে এক ব্যক্তি রেলওয়ের জায়গায় নির্মিত একতলা ভবনের ছাদ ঢালাই করে সেটিকে স্থায়ী আবাসিক ভবনে রূপ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সকাল থেকেই শ্রমিকরা ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে এই নির্মাণকাজ চলে।
খবর পেয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযোগ রয়েছে, তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের “ম্যানেজ” করে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করেন। শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, একই এলাকায় এবং আশপাশে আরও কয়েকজন ব্যক্তি রেলওয়ের জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, তাদের অধীনস্থ জমিতে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়মের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি দখল ও অবৈধ নির্মাণের মাধ্যমে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরকারের সম্পদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন বলেন, রেলওয়ে থানা পুলিশ এসেছিল, আমরা তাদেরকে ম্যানেজ করেছি। দুই হাজার টাকা খরচ দিয়েছি, এরপর তারা আমাদের কাজ করতে দিয়েছে। তার এমন স্বীকারোক্তি স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে চাঁদপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব দাস বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছিলাম। আমাদের সদস্যরা তাদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে। কিন্তু তারা নির্দেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে গেছে। এছাড়া এসব বিষয় দেখার দায়িত্ব রেলওয়ের বিআইডাব্লিউ বিভাগের।
এদিকে চাঁদপুর রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মারূপ হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। যদি জিআরপি থানা পুলিশ জেনে থাকে, তাহলে তারাই ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর কারণে এমন অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ দিন দিন বাড়ছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে রেলওয়ের জমি পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
৩০ এপ্রিল ২০২৬