চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ গাজী রনির ভাই পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা লুটের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায় কর্মরত অবস্থায় এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফয়েজসহ তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদ চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের রাজারচর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মো. ইয়াকুব গাজী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার এবং মা নাছিমা বেগম সাবেক মহিলা মেম্বার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে একটি মিনি ট্রাকে করে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা চট্টগ্রামের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের একটি নির্জন সড়কে মোটরসাইকেল দিয়ে ট্রাকটির গতিরোধ করেন পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানার এসআই মাহবুবুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. গাজী মহসীনের নামও উঠে এসেছে।
মিনি ট্রাকচালক নাছিরের অভিযোগ, তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে ট্রাকটি সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশের কথিত দুই সোর্স রবিন ও মোমিনের সহযোগিতায় ট্রাকের চালকের আসন থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা লুট করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার প্রমাণ মুছে ফেলতে ট্রাকের সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ফরম্যাট করে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তল্লাশির মাধ্যমে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও তা থানায় জমা না দিয়ে লুটের অভিযোগ ওঠে ফয়েজ আহমেদসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, অভিযোগ ওঠা ফয়েজসহ তিন পুলিশ সদস্যের কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। তাঁদের আগে ও পরের কর্মকাণ্ডের বিষয়েও কিছু খারাপ অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক কারণে ওই তিন পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ গাজী রনির হস্তক্ষেপে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর ভাই ফয়েজ আহমেদ পুলিশে চাকরি পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাকরির সুবাদে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মাসুদ পারভেজ গাজী রনি ও তাঁর ভাই পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদ ইউনিয়নের বিভিন্ন মানুষকে হুমকি এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ পারভেজ গাজী রনি আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে পুলিশ কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা ইয়াবা লুটের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা
প্রতিবেদক: মাজহারুল ইসলাম অনিক/
২ নভেম্বর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur