চাঁদপুরের ইচুলী ঘাটে নদীর জায়গা দখল করে ভরাটের প্রস্তুতি!
চাঁদপুর শহরের ইচুলী গুদারা ঘাটে ডাকাতিয়া নদীর বিশাল জায়গা দখল করে বালু দিয়ে ভরাটের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তামান্না ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী হাজী মো. দুলু ও তাঁর ছোট ভাই মজিবুর রহমান মজিবের বিরুদ্ধে। নদীর অংশজুড়ে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ নির্মাণ করে জায়গাটি দখলে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা যায়, গত ৫-৬ দিন ধরে ইচুলী গুদারা ঘাটের ওপারে দক্ষিন পূর্ব পাশে ডাকাতিয়া নদীর একটি বিস্তীর্ণ অংশে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ দিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি সেখানে বালু ফেলে জায়গাটি ভরাটের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর মধ্যে পাড়ে জুড়ে তৈরি করা বাঁধের জায়গাটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১০০ ফুটের বেশি বিস্তৃত। এত বিশাল জায়গা জুড়ে তারা জিও ব্যাগ দিয়ে মাটি দিয়ে ভরাটের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ওই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতিয়া নদীর পাড় দখল করে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এবার নদীর পাড়ের সীমানা ছাড়িয়ে সরাসরি নদীর একটি বড় অংশ দখল করে ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছেন। এভাবে নদীর জায়গা দখল ও ভরাট করা হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। নদীর জায়গা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপও দাবি করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর তাঁরা সেখানে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁরা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা তাঁদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, নদীর মধ্যে ফেলে রাখা জিও ব্যাগ না সরালে কোনো লাইসেন্স দেওয়া হবে না। বিষয়টি আমরা পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণ করব।
অভিযোগের বিষয়ে মজিবুর রহমান মজিবের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এটি আমার কাজ নয়, আমার ভাইয়ের কাজ। আপনারা আমার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে অভিযুক্ত হাজী মো. দুলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এগুলো আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি। এ বিষয়ে আমাদের সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ থেকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তাই আমি কাজ বন্ধ রেখেছি। এ ছাড়া লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করেছি।
তবে জায়গাটি তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, নাকি ডাকাতিয়া নদীর সরকারি জায়গার অংশ, তা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
৬ নভেম্বর ২০২৬