Home / সারাদেশ / গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত দেশ
গ্যাস

গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত দেশ

আবারও তীব্র গ্যাস সংকটের কবলে দেশ। সরবরাহ ঘাটতিতে বিক্রি বন্ধ রেখেছে অনেক ফিলিং স্টেশন। চালু থাকা পাম্পেও নেই পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ। ফলে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। তীব্র গ্যাস সংকটে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিতে পোশাক কারখানা, ডাইং ও নিটিং শিল্প। সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ চান সাধারণ মানুষ।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটির কারণে চরম গ্যাস সংকটের কবলে দেশ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে জাতীয় গ্রিডে। জ্বালানির ভোগান্তিতে কোটি মানুষ।

গ্যাস সংকটে করুণ দশায় রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো। কোথাও পর্যাপ্ত চাপ নেই। আবার কোথাও একেবারেই বন্ধ। খোলা থাকা প্রত্যেকটি পাম্পেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না চাহিদামত গ্যাস।

ভ্যাপসা গরম আর প্রখর রোদে লাইনে অপেক্ষা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। গ্যাসের অভাবে গাড়ি চালাতে না পেরে রোজগারেও টান পড়েছে অনেকের। কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে সরবরাহ ব্যবস্থা। জানেন না খোদ পাম্প সংশ্লিষ্টরাও।

দুই জন লাইন ম্যানেজার বলেন, ৬০ লিটারের একটি গ্যাস সিলিন্ডার আগে দুই মিনিটে পূর্ণ করা যেত। এখন ৬ মিনিটে মাত্র ৫০% পূর্ণ করা যায়। গ্যাসের চাপ অনেক কম, সারামাস আমরা যেভাবে বিক্রি করছি বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠবে না কমিশন থেকে।

সংকট সমাধানে শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপে ভোগান্তি লাঘবে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ভোক্তা ও খাত সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে এক সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিতে পোশাক কারখানা, ডাইং ও নিটিং শিল্প। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে অনেক কারখানা। আবার কোথাও কোথাও অলস সময় কাটছে শ্রমিকদের।

গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে, যার বড় একটি অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে কারখানাগুলো। গ্যাসের চাপ কম থাকায় ডাইং কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক কারখানায় ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ।

গ্যাস সংকটে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় জেনারেটর, বয়লার ও বিভিন্ন উৎপাদন মেশিন স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। অনেক শ্রমিক ওভারটাইম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিল্প মালিকদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ে রফতানি পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত খরচে এয়ার শিপমেন্ট করতে হবে। এমনকি কিছু অর্ডার বাতিল হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিল্পনগরী নরসিংদীতে মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। কারখানার কর্মঘণ্টা চার ভাগের এক ভাগে নেমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই অবস্থা সিএনজি চালক থেকে শুরু করে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। তাদের অভিযোগ, এই সংকটের সময়েও কিছু ফিলিং স্টেশনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সিলিন্ডার ভর্তি ঝুঁকিপূর্ণ কন্টেইনারে দেয়া হচ্ছে গ্যাস ।

মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালতে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ক‌মে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জেও। আবাসিক ও পরিবহন খাতের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকট চলছে। ডাইং ও পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। জেলায় গ্যাস নির্ভরশীল বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রায় সাড়ে ৫শ’ শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জ জোনের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মনজুর আজিজ মোহন জানান, ইদানিং গ্যাসের যেই সমস্যা হচ্ছে, সেটা অল্প কয়েকদিন থাকবে। আশা করি, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট নিরসন হবে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের ৩৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/
৩০ জুলাই ২০২৬