‘এ’ ক্যাটাগরির চাঁদপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। নির্দিষ্ট ডাস্টবিনের অভাবে সড়ক ও জনবহুল স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, নিয়মিত সড়ক পরিষ্কার না হওয়া, অনিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, মশার উপদ্রব, দুর্গন্ধযুক্ত পানির সরবরাহ এবং ভাঙাচোরা সড়ক—সব মিলিয়ে নাগরিক জীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। নিয়মিত পৌরকর ও মাসিক ফি পরিশোধ করেও প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ এলাকায় নির্ধারিত ডাস্টবিন না থাকায় বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও জনবহুল স্থানে ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে মহল্লার অলিগলিতেও নিয়মিত ঝাড়ু না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাসিক ফি আদায় করা হলেও অনেক এলাকায় একদিন বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহ করা হলেও পরদিন আর তা নেওয়া হয় না। ফলে আবর্জনা জমে থেকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ময়লা ডাম্পিং স্টেশনগুলোও পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ না হওয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনভোগান্তি বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা কনজারভেন্সি বিভাগের কর্মকর্তা শাহজাহান খান বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে অনেক বাসাবাড়ি নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে আমাদের লোকবল বাড়েনি। নতুন বর্ধিত ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বাদে পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডে প্রধান সড়ক ও মহল্লার সড়ক পরিষ্কারের জন্য প্রায় ২০০ জন সুইপার কাজ করছেন। তবে লোকবল সংকটের কারণে সব এলাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।”
পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মতো প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জনগণের প্রতি সরাসরি রাজনৈতিক জবাবদিহিতা না থাকায় সেবার মানেও তার প্রভাব পড়ছে। তাদের মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণ করলে নাগরিক সেবায় গতি ফিরবে এবং চাঁদপুর পৌরসভা এ ক্যাটাগরির মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেও তারা প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক এলাকায় সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ রয়েছে, মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি ভাঙাচোরা সড়ক ও তীব্র যানজট তাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ‘ক্লিন চাঁদপুর’সহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন নাগরিকরা। তাদের মতে, এসব স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ নগর পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুর পৌরসভা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগরীতে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা, পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির গণ্ডি পেরিয়ে দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, সুপেয় পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। তাহলেই এ ক্যাটাগরির পৌরসভার মর্যাদা বাস্তব অর্থে প্রতিফলিত হবে এবং নাগরিকরা পাবেন কাঙ্ক্ষিত সেবা।
প্রতিবেদক: মুসাদ্দেক আল আকিব/
৩০ জুলাই ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur