সারাদেশ

কুমিল্লায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মাদরাসা শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এক মাদরাসা শিক্ষককে বেধড় পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে একই উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সরকার বিরুদ্ধে।

আহত ওই শিক্ষকের নাম মাওলানা আজিজুর রহমান। তাকে শুক্রবার পার্শ্ববর্তী চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শিক্ষক আজিজুর রহমান একই ইউনিয়নের বেতরা দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী এবং বেতরা গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষক জানান, পারিবারিক কলহের কারণে তারই স্ত্রী আমেনা আক্তার গত বৃহস্পতিবার সকালে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। পরে দুপুরের দিকে ওই শিক্ষককে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাবার জন্যে স্থানীয় গ্রামপুলিশ আবদুল মতিনকে দিয়ে খবর পাঠান চেয়ারম্যান।

খবর পেয়ে শিক্ষক মাওলানা আজিজুর রহমান তার মেয়ে দাখিল শ্রেণির ছাত্রী আরিফাতুন নুর এবং চাচাতো ভাই আবদুস ছামাদকে সাথে নিয়ে যান। এসময় চেয়ারম্যান তার কোন বক্তব্য না শুনেই লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানের পায়ে ধরে ক্ষমা চান এবং পরে সেখানে উপস্থিত তার মেয়ে চিৎকার করেও তাকে রক্ষা করতে পারেনি।
এ সময় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য লোকজনও চেয়ারম্যানকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

আহত শিক্ষক জানান, চেয়ারম্যানের এলোপাতারি পিটুনিতে তার পুরো শরীর এবং শরীরের নিন্মাংশে জখম হয়। প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে শুক্রবার তার বড় ভাই একই মাদরাসার শিক্ষক ফজলুর রহমান তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে ভাই ফজলুর রহমান জানান, কোনো কথা না শুনে বিচারের নামে চেয়ারম্যান পিটিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে আমার ভাইয়ের পুরো শরীর জখম করেছে। চিকিৎসা শেষে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মারধর করার বিষয়ে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ওই শিক্ষকের স্ত্রীর বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি তাকে মারধর করেছি। তার স্ত্রী থানায় মামলা করলে গ্রেফতার হতো। এলাকার সম্মান যেত। তাই আমি এভাবে কিছু মারধর করে বিচার করেছি।

দেবীদ্বার থানার ওসি মোঃ জহিরুল আনোয়ার জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদক:জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল,১১ এপ্রিল ২০২০

Share