ফরিদগঞ্জ

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তকে কুমিল্লা থেকে আটক করেছে ফরিদগঞ্জ পুলিশ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির কিশোরী ধর্ষণ মামলার এক আসামি অন্যত্র পালিয়েও শেষ রক্ষা পায়নি। ঘটনার তিনদিনের মাথায় অভিযুক্ত ফয়সালকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) ভোরে কুমিল্লার বরুড়া থেকে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এর আগে তার অপর সহযোগী রফিককে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্বজনরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় ওই কিশোরী তার আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিল। মানিকরাজ নামক এলাকায় একটি দোকানের সামনে বসেছিল বখাটে ফয়সাল ভুইয়া (২৩) ও রফিক ভুইয়া (২১) নামের দুই বন্ধু। এ সময় দোকানপাট বন্ধ ছিল ও বৃষ্টি হচ্ছিল। আশপাশে কোনো লোকজন ছিল না। কিশোরীকে দেখে পিছু নেয় দুই বন্ধু। তারা কিশোরী নানা প্রশ্নে জর্জরিত করে।

একপর্যায়ে কিশোরীর মুখ চেপে রাস্তার পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন তহসিল অফিসের ভেতর জোরপূর্বক ও টেনেহেঁচড়ে নিয়ে যায় তারা। সেখানে রফিক ভুইয়ার সামনে জোরপূর্বক কিশোরীকে ধর্ষণ করে বখাটে ফয়সাল। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে কিশোরীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয় তারা।

এই ঘটনায় ধর্ষণের শিকার শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে। পরে স্বজনরা তাকে হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ফরিদগঞ্জ থানায় নিয়ে যান। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতেই থানায় মামলা হয়। এরপরই অভিযান চালিয়ে পাশের দেইচর গ্রাম থেকে মফিজুল হকের ছেলে রফিক (২৪) কে গ্রেপ্তার করে।

গত বুধবার দুপুরে রফিককে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় রফিক বিচারকের কাছে ঘটনার বর্ননা দিয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করে। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে, কিশোরীর চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

অন্যদিকে, ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব জানান, পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার বরুড়া থেকে মূল আসামি ফয়সাল ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। ওসি আরো জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছে।

প্রতিবেদক : শিমূল হাছান, ১৬ আগস্ট ২০১৯

Share