চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১০নং গোহট উত্তর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নাউলা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই ও মাদক সেবন,বেচাঁসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগে ৪ জনকে আটক করে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য মুচলেকা নেয়া হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে
এ সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে নাউলা গ্রামের সচেতন নাগরিকরা চুরি ও মাদকসেবনের অভিযোগে চারজনকে আটক করেন। পরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর সালিশের দিন নির্ধারণ করা হয়। সোমবারের শালিশ বৈঠকে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নাউলা মাদুর বাড়ির মাদুর মেঝো ছেলে বজলুর রহমান বজলু, একই গ্রামের সিরাজ কন্ট্রাকটর বাড়ির ইয়াকুবের ভাতিজা আল আমিন, বজলুর ভাগিনা সুজন এবং নাউলার শরীফের ছেলে শাহপরান-এর নাম উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উল্লেখিত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা ও ব্যাটারি, লোহা, বৈদ্যুতিক মোটরসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মাদকসেবন ও তরুণদের মাদকের দিকে উৎসাহিত করার অভিযোগও করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সালিশে উপস্থিত স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে চুরি ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকান্ডে জড়িতরা সাহস পাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকান্ডের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও তারা জানান। বৈঠকে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন ১০নং গোহট উত্তর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সালিশি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল হাকিম, মো. কামরুল আহসান ও জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বৈঠকে স্থানীয়দের বক্তব্য ও অভিযোগ শোনার পর আটক ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে চুরি, মাদকসেবন কিংবা এ ধরনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ সময় সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাদের অভিভাবকদের পাশাপাশি এলাকার সচেতন নাগরিকদেরও তরুণদের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে একই ধরনের কর্মকান্ডের পুনরাবৃত্তি হলে বিষয়টি আর স্থানীয়ভাবে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এলাকায় চুরি, মাদক ও কিশোর-তরুণদের বিপথগামিতা ঠেকাতে সামাজিকভাবে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur