Home / উপজেলা সংবাদ / কচুয়া / কচুয়া গবরখোলা গ্রামে ওয়ারিশসূত্রে ক্রয়কৃত জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
গ্রামে

কচুয়া গবরখোলা গ্রামে ওয়ারিশসূত্রে ক্রয়কৃত জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গবরখোলা গ্রামে ওয়ারিশসূত্রে ক্রয় করা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ন্যায়-বিচার চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মো. মজিবুর রহমান সরকার। মামলার প্রেক্ষিতে নালিশি সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে দাউদকান্দি মডেল থানার পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ধনেশ্বর মৌজার জেএল নং-২৪১, বিএস খতিয়ান নং-১৩৫-এর ১১৪৩ দাগে বাড়ির ২.৩৪ শতক, ১১৪৪ দাগে পুকুরের ২.৮৪ শতক এবং ১১৪৫ দাগে বাড়ির মধ্যাংশের ৪.৬৭ শতকসহ মোট ৯.৮৫ শতক ভূমি রয়েছে। ওই জমি মো. মজিবুর রহমান সরকার একই উপজেলার জোয়ারীখোলা গ্রামের তার ওয়ারিশ ফুফাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের কাছ থেকে দাউদকান্দি সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মজিবুর রহমানের দাবি, তিনি প্রায় এক বছর আগে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে উক্ত জমি ক্রয় করেন। দলিল নং-৩৭৪৭। জমি ক্রয়ের পরও তিনি তার ক্রয়কৃত স¤পত্তির পূর্ণ দখল বুঝে পাননি বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-২, কুমিল্লায় একই গ্রামের নুরু সরকার, কামাল সরকার, আব্দুল করিম, নবীর হোসেন, মোশাররফ হোসেন, রাবিয়া ও ফয়েজকে বিবাদী করে জমি বুঝে পাওয়ার দাবিতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নং-২৬৩/২৬। মামলার প্রেক্ষিতে রবিবার (৪অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে বর্ণিত নালিশি স¤পত্তিতে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ প্রদান করেন দাউদকান্দি মডেল থানার এএসআই মো. সেলিম মিয়া। এ সময় তিনি বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বর্ণিত এ ভূমিতে ভবন নির্মাণের কাজ বিরত রাখার আহবান জানান।

মামলার বাদী মো. মজিবুর রহমান সরকার অভিযোগ করে বলেন, “আমি বৈধভাবে দলিলের মাধ্যমে ওয়ারিশের কাছ থেকে জায়গাটি ক্রয় করেছি। কিন্তু বর্তমানে বিবাদীরা আমার ক্রয়কৃত জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এছাড়া বাড়িতে চলাচলের পুরনো পথটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমার ঘরের সামনে পশ্চিম অংশে নবীর হোসেন নতুন ভবন নির্মাণ করছেন। এতে আমার পরিবার চলাচলসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমি আমার ক্রয়কৃত জায়গা ও পুরনো চলাচলের পথ উদ্ধারে সকলের সহযোগিতা চাই।

প্রবাসী আবু সাইদ মুঠোফোনে বলেন, “আমার সীমানার মধ্যে মজিবুর রহমানের জায়গা থাকলে তা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”

অপরদিকে কামাল হোসেন দাবি করেন, নবীর হোসেন যে জায়গায় ভবন নির্মাণ করছেন, সেই দাগে মজিবুর রহমানের কোনো জায়গা নেই। এদিকে গবরখোলা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যেকোনো সময় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,
৪ অক্টোবর ২০২৬