মতলব দক্ষিণ

আবর্জনার স্তূপ, দুর্গন্ধে নাকাল মতলব পৌরবাসী

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মতলব পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সড়কের পাশে দীর্ঘ দিন ধরে আবর্জনার স্তূপ পড়ে আছে। সরানোর উদ্যোগ না নেওয়ায় এসব আবর্জনা পচে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বেড়েছে মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব। এতে গন্ধদূষণের শিকার হচ্ছেন পৌরবাসী। স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও রয়েছেন তাঁরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মতলব পৌরসভার পুরাণ হাসপাতাল সড়ক, ঘোষপাড়া সড়ক, পূর্ব, দক্ষিণ ও মধ্য কলাদী সড়ক, চরমুকুন্দি, বাইশপুর এবং টিঅ্যান্ডটি-বোয়ালিয়া সড়কসহ আরও কয়েকটি সড়কের পাশে ময়লা ও আবর্জনার স্তূপ পড়ে আছে। এগুলোর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন খাবার হোটেল, রুটি-বিস্কুট বানানোর কারখানা (বেকারি) ও রেস্তোরাঁ এবং আশপাশের বাসা-বাড়ির নিত্যদিনের বর্জ্য। এসব আবর্জনা পচে-গলে তীব্র গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে। ওই সড়কপথে চলতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন গন্ধদূষণের শিকার হচ্ছেন। রাতের বেলায় মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের কামড় সহ্য করতে হচ্ছে তাঁদের। তীব্র গন্ধ এড়াতে অনেককেই মুখে রুমাল চেপে পথ চলতে দেখা গেছে।

ওই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক সরকার সোহেল আহম্মেদ বলেন, বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন তাঁকে পুরান হাসপাতাল সড়ক ও ঘোষপাড়া সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এসব সড়কের পাশে মাসের পর মাস ধরে আবর্জনা জমে আছে। এগুলো পচে অসহনীয় দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়াচ্ছে। ওই পথে চলতে গিয়ে দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। বমি বমি ভাব হয়, মাথা ঘুরায়। সন্ধ্যার পর থেকে সেখানে বেড়ে যায় মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব।

এসব কারণে ওই পথে চলাচল করাই দায়। তবু প্রয়োজনের তাগিদে চলতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন,বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিকবার জানিয়েও কাজ হচ্ছে না।

কলাদী এলাকার ব্যবসায়ী ওয়াদুদ মিয়া বলেন,পৌরসভার পূর্ব, দক্ষিণ ও মধ্য কলাদী, চরমুকুন্দি, বাইশপুর এবং টিঅ্যান্ডটি-বোয়ালিয়া সড়কের পাশে অন্তত ২০-২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি হাসপাতাল রয়েছে। এসব সড়কপথে চলতে গিয়ে পাশে জমে থাকা আবর্জনার গন্ধে স্কুল-কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী ও রোগীদের নাকাল হতে হচ্ছে। আশপাশের লোকজনকেও পোহাতে হচ্ছে একই ধরনের বিড়ম্বনা। তাঁরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মতলব পৌর বাজারের একটি খাবার হোটেলের এক মালিক বলেন, ‘পৌর এলাকায় ময়লা ও আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান নাই। এ জন্য বাধ্য হয়ে তাঁরা সড়কের পাশেই বর্জ্য ফেলছেন। আবর্জনার নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা হলে এভাবে সড়কের পাশে এগুলো আর ফেলবেন না। এতে শহরও পরিস্কার থাকবে।’

জানতে চাইলে মতলব পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য অনেক দিন ধরেই সরকারি জায়গা খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু নির্ধারিত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এ সুযোগে লোকজন যত্রতত্র আবর্জনা ফেলছেন। নির্দিষ্ট জায়গা পাওয়া গেলে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুন্দর ও স্বাভাবিক করা যাবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাক,কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের সাবেক কনসালট্যান্ট এবং বর্তমানে ঢাকার নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হক মন্তব্য করেন, তীব্র গন্ধ দূষণের শিকার হলে যেকোনো মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গন্ধ বা ঘ্রাণশক্তি কমে যেতে পারে। বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

প্রতিবেদক:মাহ্ফুজ মল্লিক,১০ নভেম্বর ২০২০

Share