Home / আরো / ফিচার / একটি বরকতপূর্ণ বিয়ের ঘটনা

একটি বরকতপূর্ণ বিয়ের ঘটনা

মিমকে ছোটবেলা হতেই দেখতাম অনেক লাজুক স্বভাবের৷ওদের বাড়ি আমাদের বাড়ির কয়েক বাড়ি পরেই৷ওইটুকুন মেয়ে বাপ-ভাই ছাড়া অন্য কোন পুরুষ ডাকলে যেত না৷পাড়ার ছেলে-মেয়েদের সাথে খেলতো না৷একাকিই খেলতো৷

আমার চেয়ে সাত আট বছরের ছোট| আমি মাদরাসায় ভর্তি হলাম৷ওর বাবাকে বুঝিয়ে ওকেও বালিকা মাদরাসায় ভর্তি করালাম ৷

আমার দু’বছর পর এক পর্যায়ে ওরও পড়াশোনা শেষ হলো৷এর মধ্যে ওর আমল-আখলাকের প্রশংসা শুনেছি বহুজনের নিকট বহুবার৷সুন্নাতের খুবই পাবন্দ৷কয়েকবার নাকি নবীজি সা.কেও স্বপ্নে দেখেছে|

বিয়ের প্রস্তাব পাঠালাম৷ওর বাবা আগে থেকেই আমাকে পছন্দ করতো৷ওকে জানানো হলে রাজি হলোনা৷ওর মা-ও আমাকে পছন্দ করলেও ওর জন্যই সম্মতি জানাতে পারছিলো না৷

আম্মুকে পাঠালাম৷বোনকে পাঠালাম৷কাজ হলো না৷ছেলে হিসেবে সেও আমাকে ভালোই জানে৷তবে,তার এক কথা,এলাকায় বিয়ে বসবে না।

পড়লাম মহাবিপাকে৷এদিকে বিয়েটারও পারিবারিক ভাবে প্রয়োজন ছিল জরুরি পর্যায়ে৷ওর বাবার সাথে কথা হয়৷তবে তিনিও মেয়ের অসম্মতি হলে এগুতে পারবেন না বলে জানালেন৷

কৌশল করলাম৷আব্বুকে ওর আব্বুর সাথে কথা বলে মিমের সাথে আমাকে একটু কথা বলার সুযোগ করে দিতে বললাম৷কাজ হলো৷
তবে,এবার ওকে জানানো হয়নি৷

ওদের বাড়িতে গেলাম৷একপ্রকার জোর করেই ওকে আমার সামনে আনা হলো৷বললাম,চেহারা খোলার প্রয়োজন নেই৷শুধু একটু কথা বলবো৷ অনেক করে বুঝালাম, কোন জবাব পেলাম না৷ নিরূপায় হয়ে সামনে কাগজ-কলম দিলাম৷ তুমি শুধু হ্যা বা না লিখে দাও৷একটু দেরি হলো৷তবে ছোট্ট করে ‘না’ লিখে দিলো৷ হতাশার নিংস্বাস ছেড়ে বসে রইলাম৷

কি করা যায় ভাবছিলাম৷কিছু না পেয়ে উঠে যেতে যেতে শুধু এতোটুকু বললাম,বড় ইচ্ছে ছিল তোমাকে সাথে নিয়ে আল্লাহর ঘরে যাওয়া বুঝি আর হলো না। বাইরে গিয়ে বসে আছি৷ওর মা কাছে এসে আস্তে করে বললেন “ডাকছে”৷

আবার ভিতরে গেলাম৷এতক্ষণে সে কাগজে কাগজে লিখে ফেলেছে “আল্লাহর ঘরে নিবেন বলেছেন,এজন্য রাজি হলাম৷ এবং আজই যেন বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়,সেটাও জানালো৷আমি তো খুশিতে আটখানা, রাতেই একদম সাদাসিদেভাবে আমাদের বিয়ে হয়ে গেল…

প্রথমরাতেই সে জানালো, আপনি আমাকে আল্লাহর ঘরে নিয়ে যাবেন শুনে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি৷ইচ্ছে করছিল তখনি আপনার বুকের মাঝে মিলিয়ে যাই।

আরেকদিন কথাবার্তার একপর্যায়ে বলল,আল্লাহর ঘরে নিলে দেনমোহর ‘মাফ’যদিও আমি আমার দেনমোহরে ৫০ টাকা চেয়েও ১০হাজার টাকা বেশি দিয়েছি তাও নগদ।

আল্লাহ আমাদের সকলকে একজন নেককার জীবন সঙ্গীনি দান করুন।এবং স্বপরিবারে তোমার ঘর জেয়ারতের তৌফিক দান করো। আমিন।

(মাওঃ এমদাদুল হক ফিরোজীর জীবন ডায়েরি থেকে নেওয়া।)

শেয়ার করুন

Leave a Reply

x

Check Also

fasi

কচুয়ার স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

চাঁদপুরের ...