Home / চাঁদপুর / চাঁদপুর শহরে দুই ভুয়া ট্রাফিক পুলিশ আটক
পুলিশ

চাঁদপুর শহরে দুই ভুয়া ট্রাফিক পুলিশ আটক

চাঁদপুরে সিএনজি স্ট্যান্ডে চালকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগে দুই ভুয়া ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন সুমন গাজী (৩০) ও নাহিদ (২৬)।

২১ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার-পুরান বাজার ব্রীজের পালবাজার এলাকা থেকে জনতা কর্তৃক সুমন গাজীকে আটক করে পুলিশের সোপর্দ করা হয়। এরপর সুমন গাজীকে ছাড়াতে চাঁদপুর মডেল থানায় এসে নাহিদ নামের অপর যুবক আটক হন।

আটককৃতদের মধ্যে সুমন গাজীকে গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ হেফাজতে রাখা নেয়া হয়। অপর অভিযুক্ত নাহিদকে অপরাধ স্বীকার করায় মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

চাঁদপুর শহরের পাল বাজার এলাকার সিএনজি স্ট্যান্ডের চালকরা জানান, নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দেওয়া সুমন গাজী প্রায় ১০ দিন ধরে নানাভাবে সিএনজি ও অটোচালকদের হয়রানি করে আসছিল। কথায় কথায় তাদের গাড়ির চাবি নিয়ে যাওয়া, সিট নিয়ে যাওয়া এবং সেগুলো ছাড়িয়ে আনতে চাঁদা দাবি করাই ছিল সুমন গাজীর নিত্যদিনের কাজ। এসবের প্রতিবাদ করলে সে চালকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মামলা দেয়ার ভয় দেখাতেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সিএনজি স্ট্যান্ড নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করার সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের চোখে সুমন গাজীর অপকর্ম ধরা পড়ে। এ সময় সাংবাদিকরা তার পরিচয় জানতে চাইলে, সে নিজেকে কখনো ডিসি-এসপির লোক, কখনো ট্রাফিক পুলিশ সদস্য, কখনো আবার একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা দাবি করেন।

সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারাদার ও যুবদল নেতা সোহেল আহমেদ জানান, সুমন গাজী অনেকদিন ধরেই সিএনজি ও অটো চালকদের নানাভাবে হয়রানি করছে। গতকাল আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে সে নিজেকে ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা দাবি করেন। সে এও বলেছে, কুমিল্লা থেকে ট্রান্সফার হয়ে কিছুদিন আগে চাঁদপুরে জয়েন করেছে। অথচ আজকে আবার নিজেকে একটি সংস্থার কর্মকতা দাবি করছে।

এদিকে খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ অভিযুক্ত সুমন গাজীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে ছাড়িয়ে নিতে মডেল থানায় ছুটে আসে তাকে নিয়োগ দেওয়া নাহিদ নামের এক যুবক। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে এলোমেলো কথা বলে এবং এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ জানান, আটক সুমন গাজীকে গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আর অপরাধ স্বীকার করায় নাহিদ নামের যুবকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/
২১ জুলাই ২০২৬