রাজনীতি

ভোটাধিকার নেই স্পিকার ও চাঁদপুরের একজনসহ ৮ মন্ত্রীর

কয়েক দিন পরই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বারের) নির্বাচন। তবে আইনজীবী হওয়ার পরও এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন না জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও মন্ত্রিপরিষদের আট সদস্য।

সবমিলিয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী হেভিওয়েট ১০ আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৪ এর ৫ (ক) অনুযায়ী ভোট দিতে পারছেন না। তারা হলেন- স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী মাহবুব আলী এবং শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

এছাড়া ভোট দিতে পারবেন না তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির জগো নিউজকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের (সংবিধান) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রাষ্ট্রের সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আইনজীবীরা সমিতির সহযোগী (মেম্বার) সদস্য হিসেবে থাকবেন। তবে সমিতির নির্বাচনে কোনো প্রকার ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার তাদের থাকবে না। এমনকি আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট (বার) থেকে অন্য কোনো সুবিধাও পাবেন না তারা। কিন্তু সাংবিধানিক পদ থেকে ফিরে আসার পর আবারও তারা সমিতির নিয়মিত সদস্য হবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর টানা তৃতীয়বার মন্ত্রিসভা গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ডাক পান দেশের ১০ বিশিষ্ট আইনজীবী। এর মধ্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার রয়েছেন। ছয়জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী ও আরেকজন উপমন্ত্রী। তবে সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আইনজীবী হলেও তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য নন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়া ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন আনিসুল হক।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম পিরোজপুর-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। প্রথম এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক আরেক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সুজন পঞ্চগড়-২ আসন থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। সুপ্রিম কোর্টের অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

ডা. দীপু মনি চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর-হাইমচর) আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনিও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

এছাড়া জুনাইদ আহমেদ পলক নাটোর-৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এবারই প্রথম এমপি হয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্বে তিনি।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সম্পাদকীয় পদে সাতজন এবং সদস্য পদে সাতজনসহ মোট ১৪টি পদের বিপরীতে নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯-২০ সালের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করা হয়।

আগামী ১৩ ও ১৪ মার্চ দুদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (বার) ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য আট হাজার ৮৮ জন।

গত ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের নেতৃত্বে সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত এ প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আব্দুন নূর দুলাল মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

সভাপতি-সম্পাদক ছাড়াও সহ-সভাপতি পদে মো. জসিম উদ্দিন ও বিভাস চন্দ্র বিশ্বাস, সহ-সম্পাদক পদে বাসির উদ্দিন ভূঁইয়া ও কাজী শামসুল হাসান শুভ, কোষাধ্যক্ষ পদে সৈয়দ আলম টিপু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সদস্য পদে মোহাম্মদ জগলুল কবির, মশিউর রহমান, শামীম সরদার, আফিয়া আফরোজি রানী, আওলাদ হোসেন, হুমায়ূন কবির, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে তাদের প্যানেল থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়।

এবারের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সভাপতি হিসেবে সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল জামিল (এজে) মোহাম্মদ আলী এবং সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন মনোনয়ন দাখিল করেন।

সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন দাখিল করেন মো. আব্দুল জব্বার ভূইয়া এবং আব্দুল বাতেন, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. ইমাম হোসেন, সহ-সম্পাদক পদে যথাক্রমে মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ও শরীফ ইউ আহম্মেদ। এছাড়া এ প্যানেলের সদস্য পদের প্রার্থীরা হলেন- অ্যাডভোকেট রাশিদা আলিম ঐশী, মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী, কাজী আখতার হোসেন, মো. শাফিউর রহমান, মো. শরীফ উদ্দিন রতন, মো. মোহাদ্দেস উল ইসলাম ও সৈয়দা শাহীন আরা লাইলি।

বার্তা কক্ষ
১০ মার্চ,২০১৯

Share