Home / আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

করোনায় প্রাণ হারালেন ৮ লাখ মানুষ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৮ লাখ মানুষ। গেল আট মাসে ভয়াবহ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ২৯ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ সুস্থ হয়েছেন। বাকি ৬৫ লাখ মানুষ এখনও চিকিৎসাধীন। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ব্রাজিলে বেড়েছে সংক্রমণ।

দেশগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে প্রায় এক হাজার করে। দক্ষিণ আফ্রিকায়ও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ২৯ লাখ ৯ হাজার ১২৫ জন। মারা গেছেন ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮৫ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৬১ হাজার ৭৬২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার ৭২৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৫১, মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৮৬ জনের।

বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ হাজার ৩৪১ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৯০ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭৪ জন, মারা গেছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৬৮ জন।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৪৭ জন, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৩৪ জনের। এতে দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৫ হাজার ১৯২ জন, মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪১৯ জনের। বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ হাজার ৫২২ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ৯৮১ জন। দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা ২৯ লাখ ১০ হাজার ১২২ জন, মারা গেছেন ৫৫ হাজার ২ জন।

চতুর্থ স্থানে রাশিয়ায় মোট রোগীর সংখ্যা ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮৪ জন, মারা গেছেন ১৬ হাজার ১৮৯ জন। পঞ্চম স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট আক্রান্ত ৬ লাখ ১ হাজার ১০২ জন, মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৬১৮ জনের। ষষ্ঠ স্থানে পেরুতে আক্রান্ত ৫ লাখ ৬৭ হাজার ১৫৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৩৪ জনের। মেক্সিকোয় মোট রোগী ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫০ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫৯ হাজার ১৫৪ জনের।

বার্তা কক্ষ,২২ আগস্ট ২০২০

লিবিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে ৪৫ জনের মৃত্যু

লিবিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ শিশুসহ কমপক্ষে ৪৫ জন মারা গেছেন। জাতিসংঘ বলছে এটি চলতি বছরের সবচেয়ে মারাত্বক অভিবাসীবাহী নৌকাডুবির ঘটনা।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর- এর পক্ষ থেকে বুধবার বলা হয়, লিবিয়ার জাওয়ারা উপকূলে ইঞ্জিন বিস্ফোরিত হয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে ৮০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয় মৎসজীবীরা ৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। জানা গেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকার দেশ সেনাগাল, মালি, চাদ এবং ঘানার নাগরিক।

এই ঘটনায় ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিভাসী সংস্থা(আইওএম) নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার জন্য ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় কমপক্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

২০১১ সালে অভ্যুত্থানের পরে লিবিয়ার স্বৈরশাসক গাদ্দাফির পতনের পর ইউরোপ যাওয়ার জন্য আফ্রিকা ও আরব অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে ওঠে লিবিয়া। বেশিরভাগ অভিবাসীই অনিরাপদ এবং ছোট রাবারের নৌকায় চড়ে বিপদসংকুল ভূমধ্যসাগর পারি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বার্তা কক্ষ,২০ আগস্ট ২০২০

বছরের শেষের দিকে বাজারে আসছে চীনের করোনা ভ্যাকসিন

চীনে তৈরি হতে যাওয়া সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিনটি এ বছরের শেষ দিকে খুচরা বিক্রির জন্যে বাজারে আসবে। এমনটাই জানিয়েছেন ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করা চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সিনোফার্ম এর প্রধান লিউ জিংজেন।

এ সংবাদটি প্রকাশ করেছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি। লিউ জিংজেনের বরাত দিয়ে এপির প্রতিবেদন বলা হয়, এ বছরের শেষদিকে বাণিজ্যিক বিক্রির উদ্দেশে ভ্যাকসিনটি বাজারে ছাড়া হবে।

ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করা সিনোফার্মের প্রধান লিউ জিংজেন দেশটির ‘গুয়ামিং ডেইলি’ নামে দৈনিককে জানিয়েছেন, এ ভ্যাকসিনের দাম হবে এক হাজার ইয়েন বা ১৪০ মার্কিন ডলালের কম। ২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ধাপে ভ্যাকসিনটি দেওয়া হবে। এছাড়া বছরে ২২ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই দৈনিক পত্রিকায় মঙ্গলবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে জিংজেন জানান, চীনের ১৪০ কোটি মানুষকেই এ ভ্যাকসিন নিতে হবে না। করোনা প্রতিরোধে দুটি ভ্যাকসিন পরীক্ষা করছে সিনোফার্ম।

লিউ জিংজেন আরও বলেন, সাধারণত বড় বড় শহরগুলোর শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের ভ্যাকসিনটি দেওয়ার প্রয়োজন হবে; তবে খুব কম জনবসতিপূর্ণ গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারীদের জন্য আপাতত তার প্রয়োজন পড়বে না।

বার্তা কক্ষ, ১৯ আগস্ট ২০২০

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন কানাডার অর্থমন্ত্রী

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার অর্থমন্ত্রী বিল মোর্নিয়াও । সোমবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে একটি বৈঠকে পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি করোনাকালীন ব্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে কানাডার অর্থমন্ত্রীর বিরোধ চলছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় বেশ কিছু গণমাধ্যম। এর আগে এক বিবৃতিতে মোর্নিয়াও জানিয়েছিলেন যে, তিনি দেশটির অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

এছাড়া সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দেশটির উই চ্যারিটিতে ভ্রমণ ব্যয় পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সংস্থার কাজ দেখতে বিদেশে সফরের সময় যে ব্যয় হয়েছিল তা তিনি পরিশোধ না করার পর থেকেই প্রবল চাপে ছিলেন।

কানাডার অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি বুঝতে পেরেছেন যে, তিনি ৪১ হাজার ডলার পরিশোধ করেননি। এদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং তার পরিবারও উই চ্যারিটিতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কারণে চাপের মুখে রয়েছেন।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বিল মোর্নিয়াও বলে, আমি প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে সাক্ষাত করেছি। আমি তাকে জানিয়েছি যে, আগামী নির্বাচনে আমার পুণরায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে উই চ্যারিটির সঙ্গে যা হয়েছে সে অভিযোগের কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন না বলেও জানান কানাডার এই সাবে

২০১৫ সালে জাস্টিন ট্রুডো প্রথম কানাডা সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বিল মোর্নিয়াও।

বার্তা কক্ষ,১৮ আগস্ট ২০২০

ভারতে মৃত্যু ৫০ হাজার ছাড়ালো

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৯৪১ জন মারা গেছেন।দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ রোগে মারা গেছেন ৫০ হাজার ৯২১ জন।

১৭ আগস্ট সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানায়।

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ হাজার ৯৮১ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৩। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৪২ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৭ হাজার ৫৮৪ জন। সুস্থতার হার ৭০ শতাংশের বেশি।

করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রাজ্য মহারাষ্ট্র। এরপরই রয়েছে যথাক্রমে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, তেলেঙ্গানা ও গুজরাট।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মহারাষ্ট্রে মারা গেছেন মোট ২০ হাজার ৩৭ জন। এরপর সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে তামিলনাড়ুতে ৫ হাজার ৭৬৬ জন এবং দিল্লিতে ৪ হাজার ১৯৬ জন।

বার্তা কক্ষ,১৭ আগস্ট ২০২০

ফের বিশ্বে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

দুই সপ্তাহ পর আবারও বিশ্বে দৈনিক করোনাভাইরাসে আক্রান্তের নতুন রেকর্ড হল। গত ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৩৭ জনের করোনা আক্রান্তের রেকর্ড করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

শনিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টে এ তথ্য পেয়েছে ডব্লিউএইচও। এ পর্যন্ত গোটা বিশ্বে মোট ২ কোটি ১৩ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে ভারতে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজারের বেশি করোনা রোগী পাওয়া গেছে।

এর আগে বিশ্বে দৈনিক আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছিল ৩১ জুলাই। ওই দিন করোনা পজিটিভ হয়েছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৫২৭ জনের।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, আক্রান্তের নতুন রেকর্ডের দিনে সারা বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন ৯ হাজার ৯৮৫ জন। তাতে মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৬ জন।

আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষ দেশ যুক্তরাষ্ট্র, সেখানে ৫৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি সংক্রমণ হয়েছে। ৩৩ লাখ ১৭ হাজারের বেশি আক্রান্ত নিয়ে তাদের পরে আছে ব্রাজিল এবং ভারতে মোট রোগী ২৫ লাখ ২৬ হাজার পেরিয়ে গেছে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেওয়ার পথে। আক্রান্ত বিবেচনায় করোনায় মৃত্যুহার দেশে অনেক কম। ভ্যাকসিন ছাড়াই দেশ এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার পথে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিসিপিএস অডিটোরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০২০ পালন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বার্তা কক্ষ,১৬ আগস্ট ২০২০

সৌদি যুবরাজের মৃত্যু

সৌদি আরবের যুবরাজ আবদুলাজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলাজিজ বিন তুর্কি আল-সৌদ মারা গেছেন। সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে তার মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রায়াত্ত বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে শনিবারের এক অনলাইন প্রতিবেদনে যুবরাজ তুর্কি আল-সৌদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের দৈনিক আরব নিউজ।

সৌদি রয়্যাল কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার রাজধানী রিয়াদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

আবদুলাজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলাজিজ বিন তুর্কি আল-সৌদ ১৯৬২ সালের ২৭ অক্টোবর রিয়াদে জম্মগ্রহণ করেন। বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের পঞ্চম পুত্র ছিলেন তিনি। তার হলেন রাজকুমারী আয়েদা ফুস্তুক।

বৃটেনের হার্ডফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন। অর্থনীতি বিষয়েও ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

বার্তা কক্ষ,১৬ আগস্ট ২০২০

বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে : রাষ্ট্রদূত জাবেদ পাটোয়ারী

যথাযথ মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক শব্দ, বাংলাদেশকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। জাতির পিতা ছিলেন বাঙ্গালি জাতির মুক্তির মহানায়ক। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র জন্ম নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্বাধীনতার রূপকার। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন।

জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, প্রবাসে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের কাছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, আদর্শ ও দেশপ্রেম পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে দূতাবাস ও সৌদি আরবের বাংলাদেশ কমিউনিটির সকল স্কুলগুলোকে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।

জাতির পিতার পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায়ের পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

১৫ আগস্ট সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। এ সময় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

দূতাবাসে স্থাপিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রদূত জাবেদ পাটোয়ারী। জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন ছিল। আলোচনার শুরুতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এসময় শোক দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের ইকোনমিক মিনিস্টার ড. আবুল হাসান, শ্রম কাউন্সেলর মেহেদী হাসান, কাউন্সেলর হুমায়ূন কবির ও পাসপোর্ট ও ভিসা উইং এর প্রথম সচিব কাজী নুরুল ইসলাম।

দূতাবাসের চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্স এস এম আনিসুল হক বঙ্গবন্ধুর জীবন, রাজনীতি ও দেশপ্রেম এর বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। দূতাবাসের ডিফেন্স এ্যাটাসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ সিদ্দিকী তাঁর বক্তব্যে সরকারি চাকুরীজীবীদের ভালো ব্যবহারের মধ্য দিয়ে জনগণের সেবা প্রদানের বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা তুলে ধরেন। দূতাবাসের কার্যালয় প্রধান মিনিস্টার ড. ফরিদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীসহ শাহাদাৎ বরণকারী সকল সদস্যদের আত্মার শান্তি ও দেশ, জাতির সুখ সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়।

এরপর দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র “বঙ্গবন্ধু- বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি” প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া নির্মলেন্দু গুনের কবিতা “সেই রাতের কল্পকাহিনী” আবৃত্তি করেন দূতাবাসের প্রেস উইং এর প্রথম সচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

এদিকে জেদ্দাস্হ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল যথাযথ মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় দিবসটি পালন করে। কনসাল জেনারেল ফয়সাল আহমেদ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতের পর কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, পুলিশের সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী সৌদি আরবে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসাবে ১৪ আগষ্ট রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সস্ত্রীক রিয়াদে এসে পৌঁছান। এসময় রিয়াদ কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি ১৫ আগষ্ট সকালে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সৌদির নিয়মানুযায়ী চৌদ্দ দিন হোম কোয়ারান্টাইন শেষে তিনি কাজে যোগদান করবেন বলে দূতাবাস সূূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদক:সাগর চৌধুরি,১৬ আগস্ট ২০২০

দুবাই বিমান অফিস থেকে করোনা টেস্ট সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

১৬ আগস্ট থেকে দুবাই বিমানবন্দরে বন্ধ হচ্ছে করোনা রেপিড টেস্ট। বাংলাদেশের পতাকাবাহী বিমানে বাংলাদেশগামী যাত্রীদের ১৬ তারিখ থেকে বাইরে করোনা টেস্ট করতে হবে।

১২ আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের দুবাই অফিস থেকে রিজিওনাল ম্যানেজার দিলীপ কুমার চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রেপিড টেস্ট অথবা করোনা সনদ হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে রেপিড টেস্টের জন্য দুবাইয়ের আল নাহদায় শাবাব আল আহলি ফুটবল ক্লাব নির্ধারণ করা হয়েছে।

৭২ ঘণ্টা পূর্বে পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়ে রেপিড টেস্ট করতে হবে। বিজ্ঞপ্তির ভাষ্যমতে, পূর্বে বিমান বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্য রেপিড টেস্ট বন্ধ থাকলেও এখন থেকে করতে হবে।

বার্তা কক্ষ,১৫ আগস্ট ২০২০

বিজ্ঞানীদের প্রশ্নের জালে আটকে গেলো রাশিয়ার করোনা টিকা

বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কার্যকরী টিকার অনুমোদন দিয়ে একইসঙ্গে চমক ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। উপাত্তের ঘাটতি, স্বচ্ছতার অভাব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকায় তার এই সিদ্ধান্ত কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।

সরকারি নথিপত্র অনুসারে, টিকাটি মাত্র ৩৮ জনের ওপর প্রয়োগ করেই কার্যকরী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এর আগে জানা যায়, মাত্র দুই মাস পরীক্ষা শেষে এর অনুমোদন দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে টিকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এমন অগ্রাহ্যতা তীব্রভাবে নিন্দিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা টিকাটির বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য পায়নি। তথ্যের ঘাটতির ফলে পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো টিকাটি প্রত্যাখ্যান করেছে। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ব্যতীত সরকাররা নিজের নাগরিকদের এ টিকা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছে।

দ্রুত টিকা তৈরি করতে গিয়ে অনেক ফাঁকফোকর রেখেছে রাশিয়া। বিজ্ঞানীরা এর কঠোর সমালোচনা করেছেন। এর আগে রাশিয়া ইবোলার টিকা তৈরির সময়ও কিছুটা একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। কার্যকরী কোনো টিকার জন্য মুখিয়ে রয়েছে বিশ্ব। সম্ভাব্য টিকাগুলোর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগে থেকেই হাজার হাজার কোটি ডলারের চুক্তি করছে সরকাররা। এর মধ্যে রাশিয়ার এ টিকা নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এও দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্ত দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ফের শীতল যুদ্ধের আবহ সৃষ্টি করেছেন পুতিন।

টিকার ঘোষণা
মঙ্গলবার করোনা টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দেন পুতিন। তিনি জানান, টিকাটি তৈরি করেছে মস্কোর গামালেয়া ইনস্টিটিউট। টিকাটি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেবে বলে দাবি করেন তিনি। জানান, টিকাটি বেশ কার্যকর ও এটি সব প্রয়োজনীয় যাচাই প্রক্রিয়া পাস করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

পুতিন জানান, টিকাটি তার এক মেয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে কোন্‌ মেয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে তা তিনি উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, প্রথম ডোজ নেয়ার পর তার ওই মেয়ের শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও পরেরদিন তা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর তার তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ফের স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসে। প্রসঙ্গত, পুতিন সাধারণত তার মেয়েদের নিয়ে জনসম্মুখে কথা বলেন না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, তার দুটি কন্যা রয়েছে। তাদের নাম যথাক্রমে মারিয়া ভরন্তসোভা ও কাটেরিনা তিখোনোভা। তাদের সম্পর্কে খুব একটা তথ্য প্রকাশ পায়নি আজ অবধি।

এদিকে, রুশ বিজ্ঞানীরা জানান, টিকাটির প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষায় তা সফল প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী কিরিল দমিত্রিয়েভ জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবীর ওপর টিকাটি প্রয়োগের প্রত্যাশা করছেন তারা।

মাত্র ৩৮ জনের ওপর পরীক্ষা, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
পুতিন টিকাটির পক্ষে সাফাই গাইলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোয় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। বুধবার রুশ বার্তা সংস্থা ফ্রন্টাঙ্কার বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি মেইল জানিয়েছে, রাশিয়ার টিকাটি মাত্র ৩৮ জন মানুষের ওপর প্রয়োগ করে পরীক্ষা শেষ করা হয়। সরকারি নথিপত্র অনুসারে, টিকাটি গ্রহণের পর বেশকিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, হাইপারথার্মিয়া, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, দুর্বলতা, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, ক্ষুধামন্দা, গলা শুকিয়ে যাওয়া, নাক বন্ধ থাকা ইত্যাদি।

সরকারি নথিপত্রে, টিকাটি ১৮ বছরের কম ও ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষদের ওপর প্রয়োগ করতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া, প্রসূতি নারীদের ওপরও এটি প্রয়োগ না করতে বলা হয়েছে। অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে এই টিকাটির প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে তাও এখনো অজানা।

৪২ দিনের গবেষণা শেষে নিবন্ধন, কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ

ফ্রন্টাঙ্কা অনুসারে, রুশ টিকাটি মাত্র ৪২ দিনের গবেষণার পরপরই নিবন্ধন করা হয়েছিল। এর কার্যকারিতা এখনো ‘অজানা’। টিকাটি নিবন্ধনের জন্য জমা দেয়া একটি সরকারি নথিপত্র অনুসারে, টিকাটির সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়া বিষয়ক কার্যকারিতা নির্ধারণে কোনো গবেষণা করা হয়নি। যদিও পুতিন দাবি করেছেন, টিকাটি সকল প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় পাস করেছে। টিকাটির অ্যান্টিবডি তৈরির সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞানী, বিশ্বনেতাদের সমালোচনা
রাশিয়ার টিকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রচেষ্টার ঘাটতির তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা। টিকাটি প্রস্তুতকারী গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে উদ্ধৃত করে দ্য ডেইলি মেইল জানিয়েছে, এত স্বল্প পরীক্ষার মাধ্যমে টিকাটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যে ৩৮ জন অংশগ্রহণকারী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তারা আলাদাভাবে মোট ১৪৪টি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ভুগেছেন। বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই তা গুরুতর কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। তবে এর মধ্যে পরীক্ষার শেষ দিনেও ৩১টি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া চলমান ছিল। ২৭টি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার পরিণতি কী হতে পারে তা টিকা তৈরিকারকরাও নিশ্চিত করতে পারেননি।

এদিকে, বৃটেনের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের সায়েন্স পলিসি রিসার্চ ইউনিটের লেকচারার ড. ওহিদ ইয়াকুব বলেছেন, এ টিকাটি পানির চেয়ে খুব ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, এটা হচ্ছে জাতীয়তাবাদের টিকা। অনেকে বলেছেন, টিকাটির অনুমোদন দেয়া বেপরোয়া ও বোকামি। সিএনএনের ড. সঞ্জয় গুপ্ত বলেছেন, তিনি রাশিয়ার এই টিকা নেবেন না। তার ভাষায়, আমি এই টিকা সম্পর্কে কিছু জানি না। একই কথা বলেছেন ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সাবেক কমিশনার ড. স্কট গোতলিয়েব। ড. গুপ্ত আরো বলেন, তিনি বলেছেন, এই টিকার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তাই তিনি এই টিকা নিয়ে স্বস্তি বোধ করবেন না। রাশিয়া যখন ইবোলা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করছিল তখনকার কথা এতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। কারণ, তিনি ওই সময়ের তিন দফা পরীক্ষার কোনো উপাত্তই জানাতে পারেননি।

বৃটেনের ওয়ারউইক বিজনেস স্কুলের ওষুধ গবেষণা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আয়ফার আলি বলেন, রাশিয়া আদতে বিশাল জনসংখ্যা ধ্বংসকারী পরীক্ষা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এত দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার মানে হচ্ছে, টিকাটির সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবগুলো ধরা পড়েনি। এমন প্রভাব বিরল হলেও তা অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনেটিকস ইনস্টিটিউটের ফ্রাসোয়া বালৌক্স বলেন, এটা একটা বেপরোয়া ও বোকামি সিদ্ধান্ত। তিনি আরো বলেন, অপর্যাপ্ত পরীক্ষার আগে গণহারে কোনো টিকা প্রয়োগ অনৈতিক।

মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার বলেছেন, টিকা তৈরিতে প্রথম হওয়াটা বড় বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মার্কিন জনগণ ও বিশ্ববাসীর জন্য নিরাপদ ও কার্যকর একটি টিকা। তিনি বলেছেন, একটি টিকা তৈরিতে স্বচ্ছ উপাত্ত প্রয়োজন। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা থেকে আসা উপাত্তের প্রয়োজন, যা বলবে যে একটি টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তারা এই টিকা গ্রহণ করবেন না।

রাশিয়ার টিকার মান সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেছে জার্মানি। তারা বলেছে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ওই টিকাকে অনুমোদন দেবে, যা পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জার্মান নিউজ পেপার বিষয়ক নেটওয়ার্ক আরএনডি’কে বলেছেন, রোগীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বাধিক অগ্রাধিকারে রয়েছে। রাশিয়ার টিকার মান, কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।

পুরনো গৌরবের স্মৃতি স্মরণের চেষ্টায় রুশ সরকার
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম মহাকাশে স্পুটনিক স্যাটেলাইটের সফল উড্ডয়ন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সে ধারা অনুসরণ করেছে এবার করোনার টিকার অনুমোদন দিতে তাড়াহুড়ো করেছে রাশিয়া। সপুটনিক স্যাটেলাইটের সেই স্মৃতিকে মনে করিয়ে দিতে তারা এই টিকার নাম দিয়েছে ‘স্পুটনিক-ভি’। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে নতুন করে এক শীতল যুদ্ধে লিপ্ত রাশিয়া। তারা এই টিকার কোনো পরীক্ষা, উপাত্ত প্রকাশ না করে আকস্মিকভাবে এটা অনুমোদন দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের সমালোচনার বিপরীতে রাশিয়া দাবি করেছে, এরই মধ্যে কমপক্ষে ১০০ কোটি ডোজের জন্য ২০টি দেশ থেকে অর্ডার পেয়েছে তারা। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তে কয়েক লাখ ডোজ কেনার চুক্তি করেছেন। রাশিয়ান কর্মকর্তাদের মতে, আগেই এই টিকা কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত, ব্রাজিল ও সৌদি আরব।

ক্রেমলিন এবং তাদের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া থেকে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের সারা বিশ্বের পাইওনিয়ার বা অগ্রদূত বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই টিকাকে জাতীয় প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এর আগে গত মাসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। তারা বলে, পশ্চিমাদের করোনাভাইরাস তৈরির গবেষণা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করার চেষ্টা করেছে রাশিয়া। এভাবে গবেষণা চুরি করে তারা টিকা তৈরির লড়াইয়ে বিজয়ী হতে চায়।

বার্তা কক্ষ, ১৩ আগস্ট ২০২০