Home / চাঁদপুর / চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল : প্লাবিত হতে পারে চরাঞ্চল
anti-deserter-activities-in-chandpur

চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল : প্লাবিত হতে পারে চরাঞ্চল

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ক্ষতি কাটিয়ে চাঁদপুরে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা হিসেবে চাঁদপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলার নি¤œাঞ্চল তথা চরাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

জেলার ইউনিয়নগুলোতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বাতিল করা হয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্বাস্থ্য বিভাগের সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বধরনের ছুটি।

ঝড়পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ মজুত রাখার পাশাপাশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত অর্থ।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আভাস পেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি সভা করা হয়েছে। ওই সভায় ফণী মোকাবেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবধরনের ছুটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়।

জেলার আটটি উপজেলায় একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধায়নে এসব কন্ট্রোল রুম থেকে জেলার সব ইউনিয়নে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আভাস পেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি সভা করা হয়েছে।

সভায় জেলা প্রশাসক পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা, নৌ-পুলিশ, আবহাওয়া বিভাগসহ সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাজের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোজখবর নেন।

পরে তিনি ব্রিফিংয়ে জানান, চাঁদপুর সদরের ইব্রাহীমপুর, রাজরাজেশ্বর, হাইমচরের কয়েকটি চরাঞ্চল আবহাওয়া বিভাগের তথ্যানুযায়ী প্লাবিত হতে পারে। আমরা সর্বদা সজাগ ও সতর্ক আছি। চাঁদপুরে এখন ৬নং বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে আমরা ৭নং বিপদ সংকেত হলে চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে সতর্কমূলক মাইকিং করবো। এ বিষয়ে তথ্য বিভাগ ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সহযোগিতা নেয়া হবে। দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন খোলা রাখতে হবে।

জেলার কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমে খোলা থাকবে জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখায়। এই কন্ট্রোল রুমের মাধমে ঘূর্ণিঝড়কালীন পুরো জেলার খোঁজ-খবর রাখা হবে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়পরবর্তী প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় শুকনা খাবারসহ পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রাখা হয়েছে। বরাদ্দ রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত অর্থ এবং টিন।

এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ জেলার বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। যারা ঘূর্ণিঝড়কালীন ও ঝড়পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল সহযোগিতা দিতে পারে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদ আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর নৌ-পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ইসমাইল হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক লক্ষণ চন্দ্র সূত্রদরসহ আবহাওয়া, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও ৮ উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় “ফণি” আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় (১৭.৮ক্ক উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪.৯ক্ক পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি আজ সন্ধ্যা ০৬ টায় (০২ মে) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১০ কিঃ মিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮৫ কিঃ মিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩৫ কিঃ মিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৬০ কিঃ মিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ০৩ মে বিকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং পরবর্তীতে উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে ০৩ মে সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ০৩ মে সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় “ফণি” এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিঃ মিঃ এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৬০ কিঃ মিঃ যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিঃ মিঃ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৭ (সাত) নম্বর পুনঃ ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ০৭ নম্বর বিপদ সংকেত (পুনঃ) ০৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ০৬ (ছয়) নম্বর পুনঃ ০৬ (ছয়) নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ০৬ নম্বর বিপদ সংকেত (পুনঃ) ০৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার সমূদ্র বন্দরকে ০৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত (পুনঃ) ০৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ৯০-১১০ কিঃ মিঃ বেগে দম্কা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদক- দেলোয়ার হোসাইন
২ মে ২০১৯