চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি জেলার নাটক, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, চিত্রকলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। জেলার শিল্পী, নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নিয়মিত চর্চা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানের কালচারাল অফিসার দিতি সাহার দায়িত্ব পালন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, মহড়া কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ এবং প্রশিক্ষক নিয়োগ ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাঁদপুরের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁকে চাঁদপুর থেকে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁদের কেউ কেউ।
সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার হিসেবে দিতি সাহার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিজস্ব অনুষ্ঠান, নাটকের মহড়া, সাংস্কৃতিক আয়োজন কিংবা নিয়মিত কার্যক্রমে তাঁকে তেমন উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না বলে দাবি তাঁদের। তাঁদের মতে, একজন কালচারাল অফিসারের দায়িত্ব কেবল দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়, শিল্পী ও সংগঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ তৈরি এবং শিল্পকলা একাডেমিকে সবার জন্য কার্যকর রাখা তাঁর দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কালা চারাল অফিসার দিতি সাহার সাংস্কৃতিক কর্মবানান্ডের সাথে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধ্যান করে জানা যায়, সম্প্রতি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের উদ্যোগে চাঁদপুর জেলা বিএনপির আয়োজনে ‘মেইড ইন চাঁদপুর কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত হয়। এ উৎসব উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ১৪ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব। জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ এসব আয়োজনে কালচারাল অফিসার দিতি সাহাকে একদিনের জন্যও শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
তাঁদের প্রশ্ন, জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তার এসব আয়োজনে উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ কতটা ছিল? বিশেষ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত দীর্ঘ সাংস্কৃতিক উৎসবে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে দিতি সাহার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ১৪ দিনব্যাপী ‘মেইড ইন চাঁদপুর কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’ এবং চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবে তিনি কত দিন উপস্থিত ছিলেন। তবে এ প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট উত্তর তিনি দিতে পারেননি।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষ ব্যবহারের সুযোগ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, দিতি সাহা চাঁদপুরে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিয়মিত মহড়া ও রিহার্সালের জন্য আগের মতো সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সংগঠনগুলোর নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, শিল্পকলা একাডেমি জেলার সব সাংস্কৃতিক সংগঠনের চর্চা ও বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে মহড়া কক্ষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, সুনির্দিষ্ট ও সবার জন্য সমান নিয়ম থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ করে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের মহড়া ও কক্ষ ব্যবহারের সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ। তাঁদের বক্তব্য, সংগঠনটি দুই দিনের জন্য কক্ষ ভাড়া নিলে তার আগের দিন মহড়া করার সুযোগ কীভাবে পায়, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কালচারাল অফিসার দিতি সাহা বলেন, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে সবাইকে এখানে মহড়া করার সুযোগ দিতে পারিনি। যারা মহড়া করে, তারা জেলা প্রশাসক স্যারের অনুমতি ও ভাড়া সাপেক্ষে করে থাকেন।
তবে মহড়া কক্ষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব সংগঠনের জন্য কী ধরনের নিয়ম অনুসরণ করা হয় এবং কোনো সংগঠনকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
এছাড়া সম্প্রতি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনুদানের আবেদনসংক্রান্ত কাজে চাঁদপুরের বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠককে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে কালচারাল অফিসারের স্বাক্ষর নিতে হয়। এ সময় তাঁদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ, ওই দিন সকাল ১০টা থেকে অনেকে স্বাক্ষরের জন্য শিল্পকলা একাডেমিতে অপেক্ষা করেন। পরে বেলা ১২টার দিকে কালচারাল অফিসার সেখানে উপস্থিত হলে আবেদনকারীরা স্বাক্ষরের জন্য তাঁর কাছে যান। কিন্তু তাঁর অফিসিয়াল সিল সঙ্গে না থাকায় একাধিক আবেদনকারীকে ফিরে যেতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপস্থিত কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মীর দাবি, সিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমার সিল ব্যাগে বাসায় রেখে এসেছি। এতে কে কি বললো তাতে আমার কি..? এ ঘটনায় অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে তাঁরা জানান।
সরকারি অনুদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রস্তুতি, দায়িত্বশীলতা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। তবে এ ঘটনায় কতজন আবেদনকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং পরে তাঁদের আবেদনসংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে তার সিল সাক্ষরের জন্য ২/৩ দিন ধরে অনেক হয়রানির শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী সংস্কৃতি কর্মীরা।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির পূর্বে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন তবলা ও নৃত্য প্রশিক্ষককে বাদ দেওয়া নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন সংস্কৃতিকর্মীদের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, প্রশিক্ষক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ এ ঘটনাকে স্বজনপ্রীতির অভিযোগের সঙ্গেও যুক্ত করছেন।
এ বিষয়ে কালচারাল অফিসার দিতি সাহা বলেন, এক বছরের চুক্তির ভিত্তিতে প্রশিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই চুক্তির ভিত্তিতেই তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের বিষয়টিও রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে কোন প্রশিক্ষকের চুক্তি কখন শেষ হয়েছে, তাঁদের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রশিক্ষক নির্বাচনে কোন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
সংস্কৃতিকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, কালচারাল অফিসারের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নও উঠেছে। তাঁদের কেউ কেউ দাবি করছেন, কয়েকটি সংগঠন মহড়া ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় সুযোগ পেলেও অন্যরা একই ধরনের সুযোগ পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নির্দিষ্ট কোনো সংগঠন বা ব্যক্তিকে কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, অন্যদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে এবং কোথায় নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে, তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
চাঁদপুরের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী বলেন, শিল্পকলা একাডেমি জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রাণকেন্দ্র। এখানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গে শিল্পী ও সংগঠকদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকা জরুরি। কখন কর্মকর্তা অফিসে থাকবেন, কীভাবে মহড়া কক্ষ ব্যবহার করা যাবে এবং সরকারি অনুদানসংক্রান্ত কাজে কীভাবে সহযোগিতা পাওয়া যাবে, এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ও সেবামুখী ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু সাংস্কৃতিক কর্মী শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশ হচ্ছেন। এ কারণে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার দিতি সাহা ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি তার কর্মস্থলে যোগদান করেন। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাঁর চাঁদপুরে কর্মকাল প্রায় তিন বছর আট মাস।
একই জেলায় একজন সরকারি কর্মকর্তা সর্বোচ্চ কত বছর দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রচলিত বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন চাঁদপুরের সংস্কৃতিকর্মীদের কেউ কেউ। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
তবে একই জেলায় নির্দিষ্ট সময়ের বেশি দায়িত্ব পালন করলেই তা বিধিবহির্ভূত হয়ে যায়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ, পদায়ন ও বদলির প্রযোজ্য নীতিমালা যাচাই করা জরুরি।
চাঁদপুরের সংস্কৃতিকর্মীরা দিতি সাজার প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি তুলে বলেন, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, গাফিলতি কিংবা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের কেউ কেউ দিতি সাহাকে চাঁদপুর থেকে প্রত্যাহার করে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও সংস্কৃতিকর্মীবান্ধব কর্মকর্তা পদায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের মতে, শিল্পকলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ, শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিয়মিত চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চাঁদপুরের সংস্কৃতিকর্মীদের প্রত্যাশা, উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করবে। একই সঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষ ব্যবহারের নিয়ম, প্রশিক্ষক নিয়োগ ও চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া, অনুদানসংক্রান্ত সেবা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কর্মকর্তার দায়িত্ব ও অংশগ্রহণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হোক। এতে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমিকে জেলার সব সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য আরও কার্যকর ও সবার অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।
নিজের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে দিতি সাহা বলেন, আমার দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে যেভাবে কথাগুলো প্রকাশ হয়েছে, বিষয়টি সে রকম নয়।
শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার কারণে সবাইকে এখানে মহড়া করার সুযোগ দিতে পারিনি। যারা মহড়া করে, তারা জেলা প্রশাসক স্যারের অনুমতি ও ভাড়া সাপেক্ষে করে।
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে যেসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেসব অনুষ্ঠানে তাঁদের থাকতে হয়। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা নেই বলে তিনি জানান।
তবে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের উদ্যোগে চাঁদপুর জেলা বিএনপির আয়োজনে ১৪ দিনব্যাপী ‘মেইড ইন চাঁদপুর কালচারাল ফেস্টিভ্যাল’ এবং চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবে তিনি কত দিন উপস্থিত ছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা উত্তর দিতে পারেননি।
চাঁদপুরের সংস্কৃতিকর্মীদের দাবি, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার দিতি সাহার দায়িত্ব পালন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, মহড়া কক্ষ ব্যবহারে বিধিনিষেধ এবং প্রশিক্ষক বাদ দেওয়াসহ উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের মতে, জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বাভাবিক বিকাশ, শিল্পী ও সংগঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে দায়িত্বশীল ও সংস্কৃতিকর্মীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে কালচারাল অফিসার দিতি সাহাকে চাঁদপুর থেকে প্রত্যাহার করে অন্যত্র বদলি এবং তাঁর স্থলে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সংস্কৃতিবান্ধব কর্মকর্তা পদায়নের দাবি জানিয়েছেন চাঁদপুরের সংস্কৃতিকর্মীদের একটি অংশ। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
১৪ অক্টাবর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur