এক হাতে ময়লা-আবর্জনা, অন্য হাতে খাবার ও গাছের চারা। দৃশ্যটি হয়তো একটু অচেনা। কিন্তু এই অচেনা দৃশ্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে এক পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহরের স্বপ্ন। যেখানে ময়লা আর রাস্তার পাশে পড়ে থাকবে না, যেখানে পরিচ্ছন্নতা শুধু পৌরসভার দায়িত্ব নয়, বরং এ দায়িত্ব হয়ে উঠবে প্রত্যেক নাগরিকের।
সেই বার্তাই পৌঁছে দিতেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্লিন চাঁদপুর’। পৌরবাসী তাদের কাছে বর্জ্য বা ময়লা জমা দিলেই বিনিময়ে পাচ্ছেন চাল, আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে গাছের চারাও। অর্থাৎ, যে হাতে এতদিন ময়লা ছড়িয়ে পড়ত, সেই হাতেই উঠছে একটি চারাগাছ; আর পরিচ্ছন্নতার বিনিময়ে ঘরে ফিরছে প্রয়োজনীয় কিছু খাদ্যসামগ্রী।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ঘোষপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন পৌরসভার ডাস্টবিনের পাশে অনুষ্ঠিত হয় এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি। এ কর্মসূচিকে ঘিরে চাঁদপুর শহরবাসীর মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।তারায় বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিয়ে আয়োজন স্থলে হাজির হন। বর্জ্য জমা দেওয়ার পর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় খাদ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা।
এ বিষয়ে ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী অ্যাড. নুরুল আমিন খাঁন আকাশ বলেন, ময়লার বিনিময়ে খাদ্যসামগ্রী বা গাছের চারা দেওয়ার বিষয়টি কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়। এটি মূলত মানুষকে সচেতন করার একটি প্রতীকী উদ্যোগ। মানুষ যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য জমা করেন, সেই অভ্যাস তৈরি করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। একটি শহর শুধু রাস্তা, ভবন কিংবা আলোকসজ্জায় সুন্দর হয় না; নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই একটি শহরকে সত্যিকার অর্থে সুন্দর করে তোলে।
তিনি বলেন, এটি কোনো এক দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চাঁদপুর শহরকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে ভবিষ্যতেও প্রতিটি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আমি এই কর্মসূচি সফল করার জন্য ক্লিন চাঁদপুর পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এদিকে ভিন্নধর্মী এই উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন চাঁদপুর পৌরবাসী। তাদের মতে, শুধু নিয়ম বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মানুষকে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসে আনা সবসময় সহজ নয়। এর সঙ্গে যদি মানুষের অংশগ্রহণ, উৎসাহ ও আনন্দকে যুক্ত করা যায়, তাহলে সচেতনতার বার্তাটি আরও সহজে পৌঁছাতে পারে।
চাঁদপুরের রাস্তাঘাট, অলিগলি কিংবা জনবহুল স্থানগুলোতে যত্রতত্র পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা দীর্ঘদিনের একটি নাগরিক সমস্যা। সেই সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি মানুষের নিজের ভেতর থেকে পরিবর্তনের ইচ্ছা। ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর এই উদ্যোগ হয়তো সেই পরিবর্তনের পথের একটি ছোট্ট পদক্ষেপ। যেখানে ময়লা আর শুধু ময়লা নয়, সেটিই হয়ে উঠছে সচেতনতার উপকরণ। আর একটি ছোট্ট চারাগাছ হয়ে উঠছে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য চাঁদপুরের স্বপ্নের প্রতীক।
প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম/
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur