চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৮নং কাদলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য ৮ চেয়ারম্যান প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, মতবিনিময়, শুভেচ্ছা বিনিময় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নজুড়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আসন্ন ইউপি নির্বাচন। কাদলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকদের সরব উপস্থিতি ও প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা, সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং এলাকার উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।
কাদলা ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. জান্নাতুল আলম আলমগীর , বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সদস্য আব্দুল হান্নান মজুমদার, কচুয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক আব্দুর রাজ্জাক তপাদার, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাহার মজুমদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এবায়েত তালুকদার, মালয়েশিয়া শাখা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল পাটোয়ারী রতন এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু নাছের মিয়াজী। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে কাদলা ইউনিয়নে একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মাওলানা মো. মাসুম বিল্লাহ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সমর্থকদের নিয়ে তিনিও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি এলাকার সমস্যা, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে নানা প্রত্যাশা রয়েছে তাদের। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তারা এমন একজন চেয়ারম্যান চান, যিনি দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। এদিকে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে থাকায় কাদলা ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াতের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। কে শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন পাবেন এবং কার পক্ষে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন বেশি থাকবে-এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রার্থিতার চূড়ান্ত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন সক্রিয় প্রচারণায় কাদলা ইউনিয়নের সর্বত্র এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে। সামনে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, প্রার্থীদের প্রচারণা আরও জোরালো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু,
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur