Home / চাঁদপুর / চাঁদপুর–কুমিল্লা সড়কে ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ

চাঁদপুর–কুমিল্লা সড়কে ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ

চাঁদপুর জেলা সদর থেকে লালমাই পর্যন্ত চাঁদপুর–কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দখল ও স্থাপনার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), চাঁদপুর সড়ক বিভাগ। জেলা সদর থেকে লালমাই পর্যন্ত প্রায় ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আওতায় এনে সড়কের দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

রোববার (৩ মে) থেকে ১০ মে পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয় সওজ, চাঁদপুর। সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পুলিশ। অভিযানে প্রায় ১০টি বাজারের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

উচ্ছেদকৃত বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে—ওয়ারলেস বাজার, বাবুরহাট বাজার, মহামায়া বাজার, বাকিলা বাজার, দেবপুর বাজার, হাজীগঞ্জের আংশিক অংশ, উয়ারুক বাজার ও খাজুরিয়া বাজার।

সওজ সূত্রে জানা যায়, সড়কের জায়গা দখল করে স্থায়ী দোকান বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন কিছু ব্যবসায়ী। এতে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে গিয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন, যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে সড়ক বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হয়। মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেকে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিলেও, যারা নির্দেশনা মানেননি তাদের স্থাপনাই উচ্ছেদের আওতায় আনা হয়।

এ বিষয়ে সওজ, চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা: ইউনুস আলী বলেন, এটি আমাদের নিয়মিত উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ ছিল। জেলা সদর থেকে লালমাই পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশ দখলমুক্ত রাখতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছি। যারা সড়কের জায়গা দখল করেন না, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী স্থায়ী অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে নিয়মিত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন—এসব স্থাপনাই অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সড়ক জনগণের সম্পদ। সড়কের জায়গা দখল করে কেউ স্থাপনা গড়ে তুললে তা জনস্বার্থের পরিপন্থী। আমরা চাই সড়ক নিরাপদ, প্রশস্ত ও চলাচলযোগ্য থাকুক। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। উচ্ছেদের ফলে সড়কের দৃশ্যমানতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং পথচারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহল সওজের এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

তিনি আরও বলেন, সড়কের জমি রক্ষা এবং অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনিক সহায়তায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে সড়কের জমি দখল না করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে তিনি। 

  • সাইদ হোসেন অপু চৌধুরীর, ১৮ মে ২০২৬