Home / উপজেলা সংবাদ / হাইমচর / ​হাইমচরে ‘বালু খেকো’চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

​হাইমচরে ‘বালু খেকো’চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

​বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই মানববন্ধনটি এক পর্যায়ে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সচেতন নাগরিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং উপকূলীয় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এলাকাটি জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় আন্দোলনকারীরা মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

​হাইমচরে ‘বালু খেকো’চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

​হাইমচর নদী ভাংতি জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোঃ কামাল সরকার-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ​একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। ​এর ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে। ​উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে নদী ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিক পাটওয়ারী বলেন, “হাইমচর আমাদের অস্তিত্ব। এই জনপদ ধ্বংস করে কাউকে পকেট ভারী করতে দেওয়া হবে না। অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”

​কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

​স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

​উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান মিয়ার পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন​উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মাঝি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জহির মিয়াজী, ​উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন স্বপন।

​এছাড়া হাইমচর নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতিকুর রহমান (জুয়েল) সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং হাইমচর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা এই দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। বিকেলে জনতা মাঠ ত্যাগ করলেও এলাকা জুড়ে এখনো নদী রক্ষার এই দাবিটিই প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৯ এপ্রিল ২০২৬