Home / চাঁদপুর / মহান শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরে গেলেন বিলাল হোসেন
বিল্লাল ভাই

মহান শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরে গেলেন বিলাল হোসেন

মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরদিয়া কাজী সুলতান আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো.বিলাল হোসেন ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ মহান শিক্ষকতা পেশা থেকে সরকারি বিধি মতে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি একদিকে ছিলেন দক্ষ ও শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় শিক্ষক । অপর দিকে ছিলেন একজন শিক্ষক নেতা এবং পরে হয়ে ঊঠেন একজন মাধ্যমিক স্তরের জাতীয় নেতা।

মতলবের এ কৃতিসন্তান বিলাল হোসেন ১৯৬৬ সালের ১৫ জানুয়ারি মতলব দক্ষিণের গাবুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সালামত মিঞা এবং মাতার নাম মালেকা বেগম। তিনি ১৯৮২ সালে এসএসসি,১৯৮৪ সালে এইচএসসি, ১৯৮৮ সালে বিএসসি ডিগ্রি নেন।

স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের সাথে সাথেই ১৯৮৮ সালের ৬ অক্টোবর মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরদিয়া কাজী সুলতান আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিএসসি গণিত সহকারী শিক্ষক হিসেবে মহান শিক্ষকতার ব্রত গ্রহণ করেন।

১৯৯৪ সালে শিক্ষকতার লাইসেন্স হিসেবে খ্যাত বিএড ডিগ্রি নেন। শিক্ষকতা পেশা সংশ্লিষ্ঠ অনেক স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি শিক্ষকতা পেশার মধ্য থেকেই জনপ্রিয় শিক্ষক, মতলবের শিক্ষক নেতা,পরবর্তীতে জেলার মাধ্যমিক শিক্ষক নেতা ও বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির রূপকার ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জাতীয় শিক্ষক নেতা হন ।

তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি মহান এ পেশার মর্যাদা রক্ষা, নিপীড়িত শিক্ষক সমাজের কল্যাণে ও শিক্ষার মান-উন্নয়নে তিনি নিজকে এ সব শিক্ষক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত করেন। সেই হিসেবে তিনি ১৯৯২ সালে তৎকালীন বৃহত্তর মতলব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৯৬ সালে যুগ্ন-সম্পাদক, পরবর্তী ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর জেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন পদ অলংকৃত করেন। তখন আজকের দ্বারাকনাথ বা ডিএন হাই স্কুল ছিল জেলার সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি আদায়ের বা আন্দোলনের ভ্যানু।

মাধ্যমিক,কারিগরি, মাদ্রাসা ও কলেজগুলো সব সময়েই যুগপথ আন্দোলনের পেক্ষাপট তৈরি করে জেলার সকল-নেতৃবৃন্দ এক ও অভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া হয় এককভাবে ও একই ভ্যানু থেকে । সে সুবাধেই তিনি কেন্দ্রিয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে ও আন্দোলন-সংগ্রামের নীতি-নির্ধারণী সভার অন্যতম শিক্ষক নেতা হওয়ার সুবর্ণ সুয়োগ পান।alomgir-kabir-patari

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- অধ্যক্ষ ড.আলমগীর কবির পাটওয়ারী-অধ্যক্ষ সাফায়েত আহমেদ ভূঁইয়ার চাঁদপুরে নেতুত্বাধীন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি বাকশিস সংগঠনটি ঠিক থাকলেও ১৯৯৭ সালে চাঁদপুরের মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনটি দুটো ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এর একটি হয়ে যায়-লেজুড়ভিত্তিক ও রাজনৈতিক সহযোগী শিক্ষক সংগঠন্। অপরটি নীতি ও আদর্শ বিসর্জন না করে নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন-তৎকালীন ডিএন হাই স্কুলের সাবেক প্রধানশিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন। আর ঔটির নেতৃত্বে ছিলেন-বাবু অরুণ কুমার মজুমদারসহ আরো অনেকে।

ফলে বিলাল হোসেন চলে এলেন-মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের ফ্রন্ট লাইনে এবং তাঁর নেতৃত্বের বিকাশ লাভ করে। তিনি ১৯৯৪, ১৯৯৫,১৯৯৬, ১৯৯৭, ২০০০,২০০১, ২০০২, ২০০৫, ২০০৭, ২০০৮, ২০১০, ২০১১,২০১২, ২০১৫, ২০১৬ ,২০১৮ ও ২০১৯ সাল পর্যন্ত অগ্নি-কঠিন, চড়াই-উৎরাই বাকশিস ও জাতীয় শিক্ষক -কর্মচারী ফ্রন্ট কর্তৃক জাতীয়ভাবে ১৭ টি শিক্ষক সংগঠনের ডাকা প্রত্যেকটি শিক্ষকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে চাঁদপুরের শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং প্রতিটি সভা-মিছিল-পথসভা-প্রতিবাদ মুখর দাবি নিয়ে রাজপথের নেমে আসেন।

শিক্ষকগণ ধর্মঘট, হরতাল, কর্মবিরতি, সমাবেশ, মহাসমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন কর্মসূচি, স্মারকলিপি পেশ,আলোচনা, পর্যালোচনা, মিটিং,মিছিল, কালো ব্যাচ ধারণ, কালো পতাকা উড্ডয়ন, এমপি-মন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাৎ ও ১শ’ টাকায় ঘর বানিয়ে রাত্রি যাপন ইত্যাদি কর্মসূচিগুলো দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করতে বাকশিসসহ চাঁদপুর জেলার স্কুল,মাদ্রাসা ও কারিগরিদেরকে সাথে করে এক প্লাটফরম থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে চাঁদপুরের শিক্ষকগণ। তিনিও ছিলেন এর একজন।

তৎকালীন ডিএন হাই স্কুলের সাবেক প্রধানশিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনকে স্কুল কেন্দ্রিক নানা ঝামেলায় জড়ানো হয়। অত:পর তাঁর মৃত্যুর পর জেলার এ শিক্ষক সংগঠনটি নেতৃত্বহীন হয়ে যায়। যার ফলে ২০১৪ সালের ৪ নভেম্বর শিক্ষকনেতা বিলাল হোসেন বাকশিসের পরামর্শে তাঁর ক’জন সহকর্মী নিয়ে চাঁদপুরে‘মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি’ নামে নতুন একটি সংগঠন গড়ে শিক্ষকদের দাবি আদায়ে ভূমিকা রেখেছেন।

২০১৯ সালেও জেলা বাকশিসের সাথে তিনি ঢাকার রাজপথে ছিলেন। ঔ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি’ টি বর্তমানে কেন্দ্রিয়ভাবে-বাংলাদেশ মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি নামে দেশের রাজধানীসহ প্রায় ২০ উপজেলা-জেলায় সাংগঠনিকভাবে কর্মকান্ড পারিচালনা করছে। এ সংগঠনটি পরিচালনা করতে জেলা ও উপজেলায় অনেক প্রধানশিক্ষকদের বিরাগ ভাজন হতে হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি ঐ স্কুল থেকে অবসরগ্রহণ করেন।

ব্যাক্তিগতভাবে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের সৌভাগ্যশীল পিতা। ছেলে বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন এবং মেয়ে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। সহধর্মিণী একজন আদর্শ গৃহিণী ।

প্রতিবেদক : আবদুল গনি
৯ এপ্রিল ২০২৬।