Home / চাঁদপুর / রাজনীতিতে ত্যাগী ও আপসহীন অ্যাড. জহির উদ্দিন বাবর, আলোচনায় জেলা পরিষদের প্রশাসক
অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন বাবর

রাজনীতিতে ত্যাগী ও আপসহীন অ্যাড. জহির উদ্দিন বাবর, আলোচনায় জেলা পরিষদের প্রশাসক

চাঁদপুরের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও আপসহীন এক নাম অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন বাবর। জেলা পরিষদের প্রশাসক পদ নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন নিজের অবস্থানকে শুধু দাবি নয়—বরং একটি যৌক্তিক ও ইতিহাসসম্মত অধিকার হিসেবেই তুলে ধরেছেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক জীবন কোনো সুযোগ বা সুবিধার ফসল নয়—এটি সংগ্রাম, নির্যাতন, ত্যাগ আর আদর্শে অবিচল থাকার এক দীর্ঘ ইতিহাস।”

=> ছাত্ররাজনীতি থেকেই সংগ্রামের সূচনা
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন জহির উদ্দিন বাবর। শুরুর দিনগুলো থেকেই তিনি সংগঠনের কঠিন বাস্তবতা, প্রতিকূলতা এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন।
চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ২ নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করেন। এরপর তার নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি উঠে আসেন বৃহত্তর পরিসরে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য এবং সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করে তিনি প্রমাণ করেন—তিনি কেবল স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়ের একজন পরীক্ষিত সংগঠক।
=> ১৯৯০-এর আন্দোলনে সাহসী নেতৃত্ব
বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-এ জহির উদ্দিন বাবরের ভূমিকা ছিল দৃঢ় ও সাহসিকতায় ভরপুর। সে সময় চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি রাজপথে আন্দোলনকে বেগবান করেন।
তার ভাষায়, “ওই সময় রাজনীতি মানেই ছিল ঝুঁকি, গ্রেপ্তার, হামলা, মামলা—কিন্তু আমরা পিছিয়ে যাইনি। আমরা বিশ্বাস করতাম, স্বৈরাচার পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবেই।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে তখন সুবিধার জন্য আপস করেছে, ক্ষমতার কাছে মাথা নত করেছে। কিন্তু আমরা শহীদ জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আপসহীন থেকেছি। এই ইতিহাসই আমাকে আলাদা করে।”
=> দুঃসময়ে দলের পাশে, রাজপথে অবিচল উপস্থিতি
শুধু আন্দোলনের সময় নয়, দলের দুঃসময়ে, নিপীড়ন-নির্যাতনের সময়ও জহির উদ্দিন বাবর রাজপথ ছাড়েননি। তিনি বারবার মামলা, চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু কখনো দল বা আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি।
তার মতে, “রাজনীতি শুধু সুসময়ের জন্য নয়। দুঃসময়ে যে পাশে থাকে, সেই প্রকৃত কর্মী। আমি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।”
=> আইন অঙ্গনেও সুদৃঢ় অবস্থান
রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায়ও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি আইনজীবীদের আস্থা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর একজন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
=> কেন তিনিই সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার
জহির উদ্দিন বাবরের মতে, জেলা পরিষদের প্রশাসক পদ কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নয়—এটি নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের মূল্যায়নের জায়গা।
তিনি বলেন, “যারা মাঠে ছিল, সংগ্রাম করেছে, দলের জন্য নির্যাতন সহ্য করেছে—তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। আমি বিশ্বাস করি, আমার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আদর্শিক অবস্থান আমাকে এই দায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে।”
=> দলের প্রতি বার্তা
দলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করলে সংগঠনের ভেতরে হতাশা তৈরি হয়। এখন সময়—পরীক্ষিত, বিশ্বস্ত এবং আপসহীন নেতৃত্বকে সামনে আনার।

চাঁদপুর টাইমস রির্পোট/

২৯ মার্চ ২০২৬