১৭ মার্চ বাদ আছর হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের দ্বিতীয় তলায় সর্বস্তরের রোজাদার মানুষের সম্মানার্থে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাবেক আহবায়ক, সভাপতি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি,আধূনিক হাজীগঞ্জের রূপকার,সাবেক মোতওয়াল্লী, হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড.আলমগীর কবির পাটওয়ারী ব্যাক্তিগত উদ্যোগে এক ইফতার ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
উক্ত ইফতার মাহফিলে,হাজীগঞ্জ উপজেলা, ছাত্রদল, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সমুহ এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সমর্থক, বাজার ব্যবসায়ী, শিক্ষক, মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী, স্থানীয় মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণের একাংশ, হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীগণ, শ্রমিক , মেহনতি মানুষের এককাংশ, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এ ইফতার ও দোয়ার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন। মাহফিলটি পরিচালনা দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন-বড় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুর রঊফ। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মোতওয়াল্লী আলহাজ¦ প্রিন্স শাকিল আহমেদ ও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার আহমেদ। দোয়াপূর্ব অধ্যক্ষ ড.আলমগীর কবির পাটওয়ারী লিখিত কী-পয়েন্টে ও অত্যন্ত আবেগঘন ও নাতিদীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন। উক্ত ইফতার ও দুআ মাহফিলের বক্তব্যটুকু সাপ্তাহিক হাজীগঞ্জ পত্রিকার পাঠকদের জন্যে উপস্থাপন করা হলো। যা নিম্মরূপ :
আজকের ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত সম্মানিত সুধীবৃন্দ- আসসালামুআলাইকুম। আজকের ইফতার ও দোয়া মাহফিলের পক্ষ থেকে নব নির্বাচিত, জননন্দিত নেতা জনাব ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি সাহেবকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
সম্মানিত সুধী, শতাব্দীকাল ধরে, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেট, ধর্মীয় এবং মানবতার কল্যাণে সেবা দিয়ে যাচ্ছে- আলহামদুলিল্লাহ। আমার বাবার মৃত্যুর পর, বিদেশ থেকে এসে, ১৯৮৫ সনে অত্র এস্টেটের দায়িত্বভার গ্রহণ করি। তখন উক্ত এস্টেটে স্টাফ-কর্মচারী ছিলো মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে ১ জন ঝাড়ুদার, তিনি মসজিদ, অজুখানা এবং টয়লেটসহ সাধ্যমত সব কিছুই পরিষ্কার করতেন। সে সময় অত্র এলাকায় ধর্মীয় মতবাদ সংক্রান্ত বিরোধ বিদ্যমান ছিলো। তার সাথে এস্টেটের অভ্যন্তরীণ সমস্যাসহ নানা প্রকার বিশৃঙ্খলাও ছিল।
এস্টেটের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে অত্র এলাকায় ধর্মীয় কার্যক্রমের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করি। তার পাশাপাশি মাজার ব্যবস্থাপনার ন্যায়, নিয়ত মানতের দ্রব্য সামগ্রীর আগমনের যথাযথ হিসাব-নিকাশ এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে নিয়ত মানতের দ্রব্য সামগ্রীর আগমন বন্ধ করতে হয়েছে। সে সময় মসজিদের ১ম অংশে, ১১ দরজা বিশিষ্ট ‘বিশাল ওয়াল’। মসজিদের ২য় অংশের মাঝে, ৭৭ টি কলাম। মসজিদের নাজুক এবং জরাজীর্ণ ছাদ ঘেমে বৃষ্টির সময়ে পানি পড়তো। আয়ের উৎস হিসেবে অল্প কিছু ভাড়া ঘর ছিলো- তার মধ্যে অধিকাংশই জরাজীর্ণ। মেরামত বাবদ ভাড়ার সিংহভাগ টাকা খরচ হয়ে যেতো। সে সময় বিভিন্ন কারণে মসজিদের আর্থিক অবস্থা এমনই পর্যায়ে পৌঁছে ছিলো যে- ৬ জন স্টাফ কর্মচারীর বেতন এবং মসজিদের বিদ্যুৎ বিল চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। সেবার মানের অসুবিধার কারণে মুসুল্লির সংখ্যা তেমন ছিলো না। এক পর্যায়ে নামাজ এবং নামাজের সেবা কার্যক্রমসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনা ব্যয় মিটানোর জন্য আমার নিজের মনের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলাম।
আজ ভাবতে অবাক লাগে যে, সেবা কাজে দান কালেকশানের জন্য : (১) মসজিদের দক্ষিণে রাস্তার পাশের গেইটে, রাস্তার পথচারী এবং বাস-ট্রাক ইত্যাদি পরিবহন এবং যাত্রীগণের কাছ থেকে টাকা-পয়সার জন্য ‘রাস্তায় মাইক’ বসিয়ে কালেকশন করতে হয়েছে। (২) চাঁদপুর-কুমিল্লা রুটের বোগদাদ বাস এবং ঢাকা-হাজীগঞ্জ রুটের মেঘনা বাসের টিকেট ছাপিয়ে, ‘টিকেট বিক্রয়’ করতে হয়েছে। (৩) শিক্ষার্থীদের এক্সারসাইজ খাতার কভার প্রিন্ট করে, খাতা তৈরি করে মাদ্রাসা এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে তা বিক্রয় করতে হয়েছে। (৪) ক্ষুদ্র দান বাক্স দিয়ে ‘যানবাহনে কালেক্টর’ পাঠিয়ে যান বাহনের যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে টাকা-পয়সা কালেকশন করতে হয়েছে। (৫) ‘বিভিন্ন এলাকায়’ ক্ষুদ্র দান বাক্স পাঠিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা-পয়সা কালেকশনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। (৬) ‘প্রতি শুক্রবার’ পবিত্র জুমার নামাজের পূর্বে, নামাজের কাতারে দান বাক্স দিয়ে দান কালেকশনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। নামাজ এবং নামাজসহ প্রাসঙ্গিক সেবা,ভবন ব্যবস্থাপনা, মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনাসহ প্রাসঙ্গিক সেবা ব্যবস্থপনা কাজে অর্থ যোগানের জন্য উপরোক্ত কাজগুলোর মধ্যে আজ ১টিও করতে হয় না- আলহামদুলিল্লাহ।
এস্টেটের আর্থিক সামর্থ না থাকার পরও উদ্ভাবনী চিন্তা চেতনার মধ্যে, ঝুঁকি অতিক্রম করে পর্যায়ক্রমে- ১. হাজীগঞ্জ প্লাজা মার্কেট, যা আধুনিক হাজীগঞ্জের ফাউন্ডেশন বা ভিত্তির সূচনা করেছে। ২. হাজীগঞ্জ টাওয়ার মার্কেট, ৩. রজনীগন্ধা মার্কেট ৪. মসজিদের সামনে উন্মুক্ত প্রান্তর ৫. কাওমী মাদ্রাসা মার্কেট ৬. আহমাদিয়া মার্কেট ৭. হযরত মকিম উদ্দিন শপিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করি।
এস্টেটের পক্ষ থেকে এ সকল অবকাঠামোগত উন্নয়নে অন্যান্য উদ্যোক্তা বিনিয়োগকারীগণের মধ্যে ‘সাহস সঞ্চারিত’ হয়ে গত ২৫ বছরে বাজারের পরিধি বেড়েছে কমপক্ষে ১০গুণ। কর্মসংস্থান বেড়েছে বহুগুণ। মসজিদের ১ম ও ২য় অংশ নিয়ে এক তলা মসজিদকে, ১৬ টি পিলার দিয়ে ৫ তলা ফাউন্ডেশন নিয়ে দো’তলা পর্যন্ত মসজিদ পুন:নির্মাণ করি- আলহামদুলিল্লাহ। কর্মসংস্থানসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্মীয় কার্যক্রমের গতিধারায় ১। মুনিরিয়া নূরানী মাদ্রাসা ২। হযরত মনিরুদ্দীন মনাই হাজী রহ. হাফেজী মাদ্রাসা ৩। আহমাদিয়া কাওমী মাদ্রাসা এবং ৪। আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসার পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নসহ প্রতিষ্ঠা করি।
সম্মানিত সুধী, শিক্ষাক্ষেত্রে নবজাগরণ সূচীত হয়।
নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টগণের কারণে হাজীগঞ্জে থাকা-খাওয়া, কেনা কাটাসহ,অর্থনীতিতে নতুন প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এতে কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার মান-উন্নয়নসহ সম্পদ-সম্পত্তির মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এলাকার উন্নয়ন হয়েছে অনেক। পরপর একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারণে,বর্তমানে অত্র এস্টেট মাত্র কয়েক কোটি টাকা ঋণগ্রন্থ। উন্নয়নের ক্ষেত্রে যা নিতান্তই স্বাভাবিক। তবে আমাদের জন্য এটি অনেক কষ্টের।
সম্মানিত সুধী, সুবিধা অসুবিধার মধ্যেই জীবন। সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতায় আজ হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্স ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে এটি কেবল মাত্র বাংলাদেশেই নয়, দেশের গন্ডি পেরিয়ে মুসলিম বিশ্বেও পরিচিত। তার সাথে আমাদের প্রিয় হাজীগঞ্জ নামটি সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করছে। এটি অত্র অঞ্চলের ব্রান্ড। হাজীগঞ্জ ধন্য, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের জন্য। আমি মোতওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ এর ‘প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।
ব্যতিক্রমী শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করার কারণে মডেল কলেজ সারা দেশে অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমাদৃত হয়ে উঠেছিলো। ফলাফলের মানে শিক্ষাবোর্ডের ‘টপ টেনে’ পর্যায়ক্রমিক অবস্থান ছাড়াও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘জাতীয় পুরস্কার’ লাভ করে মডেল কলেজটি। অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজটি চলা- আজ কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত। জনপ্রতিনিধিসহ সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতায় কলেজটিকে সরকারিকরণ করে, আমি অবসর গ্রহণ করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের আগমনে হাজীগঞ্জ সমৃদ্ধ হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ এলাকার বাহিরে থেকে যদি একজনও আসেন- তিনি যদি এক টাকা খরচ করেন- তবে তার টাকা হাজীগঞ্জের অর্থনীতির চাকায় যুক্ত হয়। একইভাবে যারা উদ্যোক্তা, দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ করছেন, নিজের কর্মের ঠিকানাসহ কাজ কর্মের ব্যবস্থা করছেন, হাজীগঞ্জের উন্নয়নের সোপানে, আপনার বিনিয়োগকৃত অবদান হাজীগঞ্জকে ধন্য করেছে। কাজেই যেকোনো মূল্যে হাজীগঞ্জে মানুষের আগমনের প্রবাহ বাড়াতে হবে।
হাজীগঞ্জকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ‘আঙ্গিক সৌন্দর্য’ বর্ধনে সহায়ক কার্যক্রম বাস্তবায়নসহ ‘পর্যটন নগরী’ এবং এ ধেেরণর ভাবনা সংক্রান্ত বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে পারলেই হাজীগঞ্জ এর উন্নয়ন আরো সমৃদ্ধ হবে। আমরা যে সেখান থেকেই এসে এখানে বিনিয়োগ করেছি- এখন সবাই আমরা হাজীগঞ্জবাসী। আমরা সবাই মিলে একটা পরিবার। স্যোশাল মিডিয়ার যুগে গতানুগতিকতা দিয়ে বর্তমান এবং আগামি প্রজন্মের জন্য সময়োপযোগী নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের সম্মান ও মর্যাদার লক্ষ্যে আমি পৌরসভার একজন নাগরিক হিসেবে, পৌর এলাকার বেশ কিছু সমস্যার, স্থায়ী সমাধান জরুরি মনে করি। তা করা গেলে পৌরসভার নাগরিক সুবিধাসহ উন্নয়নে নবজাগরণ সূচীত হবে।
সম্মানিত সুধী, পৌরবাসীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বড় মসজিদ কেন্দ্রিক হাজীগঞ্জ বাজার। বাজারসহ অত্র অঞ্চলের প্রধান সমস্যা যানজট। সমস্যাটির সমাধান করতে গিয়ে প্রশাসনের নানা তৎপরতায় স্থায়ী কোন সমাধান আজও সম্ভব হয় নি। আমি মনে করি সমস্যাটির একমাত্র সমাধান-বাজার রক্ষা করে, বাজারের অতি নিকটবর্তী স্থান দিয়ে বাই পাস, মিনি বাই পাস নির্মাণ করা।
দীর্ঘ বাইপাস নির্মাণ সময় সাপেক্ষ বিষয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে যানজটের বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে আনুমানিক ৭শ- ৮শ মিটার দৈর্ঘ্যের মিনি বাইপাস বা খন্ডিত রাস্তা নির্মাণ করেও যানজটসহ প্রাসঙ্গিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। উল্লেখ্য যে,যানজট সংক্রান্ত বিষয়টি উপলব্দিতে নিয়ে আজ থেকে ২৫-৩০ বছর পূর্বে আমি প্রচার প্রচারণা এবং প্লান উপস্থাপন করেছিলাম। যদি তখন বা পরবর্তীতে তা’ বাস্তবায়ন হতো, তবে আজকে যানজট সমস্যাটি জেলাবাসীর কাটা হয়ে দাঁড়াতো না। হাজীগঞ্জের প্রশাসন এ বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতেন না।
সম্মানিত সুধী, প্রস্তাবিত বাইপাস নির্মিত হলে- বাইপাসই রিক্সা, সিএনজি, অটো, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি, চলাচল করবে। এর সাথে ফুটপাতের ছোট ছোট ব্যবসায়ীগণ বাইপাসে বসার সুযোগ পেয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম হবেন। মূল সড়ক হবে যানজট মুক্ত। যানজট মুক্ত প্রধান সড়কে চলবে- দূরপাল্লার বাস, ট্রাক সহ সকল ভারী যানবাহন। যত দ্রুত সম্ভব বাইপাস নির্মিত হলে রাস্তার দু’পাশে নতুন নতুন উদ্যোক্তাগণ নতুন নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বাজার সম্প্রসারিত হবে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার আয় বাড়বে। এ বাইপাস আধুনিক হাজীগঞ্জের রুপকে নতুনভাবে উন্নয়নের ট্রেনে যুক্ত করে আরো এক ধাপ হাজীগঞ্জকে রুপায়িত করবে- ইনশাআল্লাহ। এর পাশাপাশি নিম্নোক্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ এবং উন্নয়নের মাত্রা আরো যুক্ত করবে-ইনশাআল্লাহ।
সম্মানিত সুধী, যত দ্রুত সম্ভব বাইপাস নির্মিত হলে রাস্তার দু’পাশে নতুন নতুন উদ্যোক্তাগণ নতুন নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বাজার সম্প্রসারিত হবে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার আয় বাড়বে। এ বাইপাস আধুনিক হাজীগঞ্জের রুপকে নতুনভাবে উন্নয়নের ট্রেনে যুক্ত করে আরো এক ধাপ হাজীগঞ্জকে রূপায়িত করবে- ইনশাআল্লাহ।
তা’ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করে ওয়ার্ডভিত্তিক সমাধানমূলক কর্মসূচি প্লান মোতাবেক গ্রহণ ও বাস্তবায়নসহ অন্যান্য কর্মসূচি বিশেষ করে- ১। মানবসম্পদ উন্নয়ন ২। উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন ৩। স্বেচ্ছাসেবী খাতের উন্নয়ন ৪। বেকারত্ব দূরীকরণে দক্ষতাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে- উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রেক্ষিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্পদ-সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধিসহ জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। বাজার এলাকায় ‘মাটির নীচ’ দিয়ে ক্যাবল নেটওয়ার্ক সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা, আগুন নেভানোর পানি সরবরাহে ‘ফায়ার হাইড্রেন্ট’ বসানো, নাগরিক সেবা পেতে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘সেবা কেন্দ্র’ , জলাবদ্ধতা এবং ‘ড্রাম্পিং স্টেশান’ ও সমাধানের জন্য ব্যক্তিগত মতামত উল্লেখ করেন্।
বিগত কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে হাজীগঞ্জ জেলার মর্যাদায় উন্নীত হওয়ার পর্যায়ে উন্নীত। বাংলাদেশের অনেক জেলা শহরকে ছাড়িয়ে গেছে হাজীগঞ্জ। আগামিতে পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন এর পর্যায় উন্নীতকরণের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে নগর পরিকল্পনার বীজ এখনই বপন করতে হবে। স্বপ্নের পথে সময়ের বাস্তবতায় পরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণই আগামির নগর উন্নয়নের সোপান হিসেবে কাজ করবে। আজকের পৌরসভা হয়ে উঠবে বর্তমান এবং আগামি প্রজন্মের জন্য এক নতুন এবং আভিজাত্যের ঠিকানা। আজকের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমাদের এমপি সাহেবের সাথে আগেই আলোচনা করেছি।
তিনি আজ গুলশান বিএনপির কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে ২ দিনব্যাপি এমপি সাহেবদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আছেন। যার কারণে আজকের তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন নি। এমনকি ভার্চুয়্যালি বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও ঐ অনুষ্ঠান থেকে আলোচনায় অংশ নেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এবং আপনাদের সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
সম্মানিত উপস্থিতি, আমার আলোচনা শুনেছেন সে জন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সকল প্রকার ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে পরিশেষে সবার সু-স্বাস্থ্য ও সাফল্য মন্ডিত জীবন কামনা করছি। ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে আলোচনা শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। ধন্যবাদ সবাইকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ মার্চ ২০২৬
এ জি
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur