রমজান উপলক্ষে সারা দেশের মতো চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলাতেও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকার ঘোষিত ছুটিতে রয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু প্রতিষ্ঠানে গোপনে কোচিং কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার শোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ থাকলেও ভবনের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত কোচিং করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় সব শিক্ষকই জড়িত।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠ নিতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক দ্রুত কক্ষ ত্যাগ করার চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, রমজানের ছুটির সুযোগ নিয়ে কিছু বিদ্যালয় কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা বলে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ে অংশ নিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এতে করে ছুটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আরিফুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির স্বার্থে স্বেচ্ছায় কিছু সময় পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।” তবে কোচিংয়ে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব তিনি এড়িয়ে যান। কোচিং ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে-এ বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ছুটিকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলন, পারিবারিক সময় কাটানো এবং মানসিক বিশ্রামের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয় নির্দেশনায়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “সরকারি ছুটির সময়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বা বিশেষ ক্লাস পরিচালনার অনুমতি নেই। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় কোচিং বাণিজ্যের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও অভিভাবকদের আর্থিক ভোগান্তি আরও বাড়বে।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
৮ মার্চ ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur