Home / উপজেলা সংবাদ / হাইমচর / চাঁদপুর টাইমসে সংবাদ প্রকাশের পর পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক
সংবাদ

চাঁদপুর টাইমসে সংবাদ প্রকাশের পর পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক

চাঁদপুরের নদীবিধৌত হাইমচর উপজেলায় অর্থকরী ফসল হিসেবে কালোজিরা চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। স্বল্প খরচ, কম সময় এবং বাজারে আকর্ষণীয় দাম থাকায় স্থানীয় কৃষকদের কাছে এটি এখন ‘কালো হীরা’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় কালোজিরার আবাদ বেড়েছে প্রায় ১৮ গুণ।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর টাইমসে >>>  হাইমচরে কালোজিরা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের, আবাদ বেড়েছে ১৮ গুণ   এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে হাইমচরে মাত্র ১ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কালোজিরা চাষ করা হয়েছিল। ফলন আশাব্যঞ্জক হওয়ায় এবং চরাঞ্চলের বেলে-দোঁআশ মাটি উপযোগী হওয়ায় এ বছর চাষাবাদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হেক্টরে। মূলত ধান কাটার পর পতিত থাকা জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এই লাভজনক ফসল আবাদ করছেন।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এবং ‘কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের’ আওতায় কৃষকদের নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

প্রদর্শনী প্লট: গত বছর ৯ জন কৃষককে প্রদর্শনী দেওয়া হলেও এ বছর তা বাড়িয়ে ২৫ জনকে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত সহায়তা: সাধারণ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হওয়ায় আরও ১০ জন কৃষককে বীজ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

মাঠে কর্মরত কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কালোজিরা চাষে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক অনেক কম। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘায় যে পরিমাণ খরচ হয়, তার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি লাভে তারা ফসল বিক্রি করতে পারছেন। চরের পতিত জমিতে এই বাড়তি আয় আসায় অনেক পরিবারে সচ্ছলতা ফিরছে।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আবু তাহের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সরকারি সহায়তা ও সঠিক বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে হাইমচর ভবিষ্যতে কালোজিরা উৎপাদনের অন্যতম হাবে পরিণত হবে।”

কুমিল্লা অঞ্চলের ‘টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাত বলেন “এই চরাঞ্চলের মাটি অত্যন্ত উর্বর। মাটির pH মান 6.5 থেকে 7.0 এর মধ্যে, যা কালোজিরা চাষের জন্য আদর্শ। বীজের দাম কিছুটা বেশি হলেও সার ও বালাইনাশকের খরচ খুব কম। কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা তাদের উৎসাহিত করছি।”

বৃহস্পতিবার গাজীপুর ইউনিয়নে কালোজিরা সহ বিভিন্ন ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেন কুমিল্লা টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর পরিচালক, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার সহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ।

প্রতিবেদক: আলমগীর হোসেন আসিফ/
৫ মার্চ ২০২৬