৭০ হাজার আসনে ৯২ হাজার জিপিএ ৫ ধারীর ভর্তির লড়াই

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও উচ্চশিক্ষায় ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন না ২২ হাজার শিক্ষার্থী। এ বছর মোট জিপিএ-এর চেয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যা কম থাকায় এই সঙ্কট তৈরি হবে বলে শিক্ষাবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়,মেডিক্যাল কলেজসহ নামী-দামি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে আসন সংখ্যা ৭০ হাজারের মতো। কিন্তু এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৯৫ জন শিক্ষার্থী।

ফলে এইচএসসিতে ভালো ফল করলেও পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। যদিও দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি-বেসরকারি মিলে আসন রয়েছে ১৩ লাখের মতো। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই থাকে সবার পছন্দের শীর্ষে। এর জন্য প্রতিযোগিতাও বেশি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয় আসন সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। বাকি আসন বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য মতে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, অধিভুক্ত কলেজসহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে আসন রয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ হাজার, ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’ লাখ তিন হাজার ৬৭৫, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আট লাখ ৭২ হাজার ৮১৫, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত মাদরাসাগুলোতে ৬০ হাজার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ হাজার ৭৫৬, দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪০,মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ১০ হাজার ৫০০টি।

এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩ হাজার ৩৩০, চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০, ছয়টি টেক্সটাইল কলেজে ৭২০, সরকারি ও বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে পাঁচ হাজার ৬০০, ১৪টি মেরিন অ্যান্ড অ্যারোনটিক্যাল কলেজে ৬৫৪, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিন হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২৯০টি আসন রয়েছে। জানা গেছে, বুয়েটে আবেদনের জন্য এসএসসিতে কমপক্ষে জিপিএ ৪ এবং এইচএসসিতে জিপিএ ৫ থাকতে হবে। এ ছাড়া মেডিক্যালের আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি দুটো মিলে সর্বনিম্ন ৯ পয়েন্ট থাকতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি দুটো মিলে কমপক্ষে ৮ পয়েন্ট থাকতে হবে। এ ছাড়া মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি দুটো মিলে কমপক্ষে ৭.৫ পয়েন্ট থাকতে হবে (তবে কোনোটিতে ৩ পয়েন্টের নিচে প্রযোজ্য নয়)।

গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের জন্য বিজ্ঞানে এসএসসি ও এইচএসসি মিলে আট পয়েন্ট থাকতে হবে (তবে কোনোটিতেই ৩.৫০-এর নিচে নয়)। অপর দিকে মানবিকে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলে ছয় পয়েন্ট থাকতে হবে (তবে কোনোটিতে ৩ পয়েন্টের নিচে নয়)।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলে কমপক্ষে ৬.৫ পয়েন্ট থাকতে হবে (তবে কোনোটিতে ৩.০ পয়েন্টের নিচে নয়)। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির শর্ত অনুযায়ী সাধারণত জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পান।

এবার (২০২৩ সালে) জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৯২ হাজার ৫৯৫ জন ছাড়াও জিপিএ ৫-এর নিচে (৩.৫ পর্যন্ত) শিক্ষার্থী আছেন ছয় লাখ ১৩ হাজার ৭৮৪ জন। তবে ৭০ হাজার আসনের জন্যই মূলত এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছেন ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ জন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, আসন্ন শিক্ষাবর্ষে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশ তাদের প্রথম পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন। বাকি ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের দ্বিতীয় পছন্দের প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ হাজারের বেশি আসন রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীরা তাদের কাক্সিক্ষত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ে ভর্তি হতে পারবে না।

এরকম পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিতে পোষ্য কোটা রাখার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পোষ্য কোটা থেকে বের হয়ে আসার পরামর্শ দেন।

১ ডিসেম্বর ২০২৩
এজি

Share