চাঁদপুরে ২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন আদায় ২১৪ কোটি টাকা

চাঁদপুরে নতুনভাবে গঠিত ৫টি সার্কেলে আয়কর রিটার্ন আদায় ২১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২৫-২৬ বছরে আয় কর রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা হলো-৬৫ হাজার ৭৩ জন।

সার্কেল গুলো হলো : চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর (উৎস)-১৩, চাঁদপুর সদর,ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর (বৈতনিক)-১৬, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ-১৪, কচুয়া-১৫, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি-১৭ সার্কেল হিসেবে সকল ক্ার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে ২০২৫-’২৬ অর্থবছরে জেলার ৮ উপজেলাকে ৫টি সার্কেলে চাঁদপুর উপ-কর অঞ্চল গঠিত হয়েছে। চাঁদপুর জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতার রিটার্ন ও নানা উৎসকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫৫ কোটি টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে- চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর (উৎস)-১৩ কর আদায় করেছে ১৬০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এতে তালিকাভূক্ত কর দাতা বা টিনধারীর সংখ্যা হলো-৩৩ হাজার ৬শ। আদায়ের লক্ষমাত্রা ছিল- ১৬০ কোটি টাকা। এ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আয় কর রিটার্ন দাখিল করেছে-১৬ হাজার ৮শ ১৭ জন।

চাঁদপুর সদর,ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর (উৎস)-১৬ কর আদায় করেছে ২০ কোটি টাকা। এতে তালিকাভূক্ত কর দাতা বা টিনধারীর সংখ্যা হলো-২৪ হাজার ৫শ। আদায়ের লক্ষমাত্রা ছিল-৫০ কোটি টাকা। এ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আয় কর রিটার্ন দাখিল করেছে-২১ হাজার ৫শ ৯৯ জন।

২০২৫-’২৬ অর্থবছরে-মতলব উত্তর ও দক্ষিণ-১৪ কর আদায় করেছে ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এতে তালিকাভূক্ত কর দাতা বা টিনধারীর সংখ্যা হলো-২২ হাজার ৫শ। আদায়ের লক্ষমাত্রা ছিল-৫ কোটি টাকা। এ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আয় কর রিটার্ন দাখিল করেছে-৬ হাজার ৯শ ৬৬ জন।

২০২৫-’২৬ অর্থবছরে- কচুয়া-১৫ কর আদায় করেছে ৮ কোটি টাকা। এতে তালিকাভূক্ত কর দাতা বা টিনধারীর সংখ্যা হলো-১৮ হাজার। আদায়ের লক্ষমাত্রা ছিল-৫০ কোটি টাকা। এ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আয় কর রিটার্ন দাখিল করেছে-৬ হাজার ৭শ ১৬ জন।

২০২৫-’২৬ অর্থবছরে-হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি-১৭ কর আদায় করেছে ১২২ কোটি টাকা। এতে তালিকাভূক্ত কর দাতা বা টিনধারীর সংখ্যা হলো- ৩৬ হাজার। আদায়ের লক্ষমাত্রা ছিল- ৪০ কোটি টাকা। এ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আয় কর রিটার্ন দাখিল করেছে- ১২ হাজার ৯শ ৭৫ জন।

উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়, চাঁদপুর সূত্রে জানা যায়,আগামি ২০২৫-’২৬ অর্থবছর থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন করদাতারা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন দাখিল করলে কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন-আর দেরিতে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

১১ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেন- অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা-যেটি কম), সেই পরিমাণ কর ছাড় পাবেন।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত কর ছাড় বা জরিমানা থাকবে না। এ সময়ে করদাতাদের শুধু নির্ধারিত কর পরিশোধ করলেই হবে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ % অথবা ৩ হাজার টাকা-যেটি বেশি),সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ % অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি,সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।

করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা এবং কর প্রশাসনকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

আবদুল গনি
৬ জুলাই ২০২৬
এ জি