বৃষ্টিতে নদী পেরিয়ে চরমেশাচরে মানুষের খোঁজ নিলেন মোশাররফ হোসাইন
চাঁদপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের শেখেরহাটসহ নদী পার হয়ে দুর্গম চরমেশাচর এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর পৌরসভার মেয় রপ্রার্থী আলহাজ্ব মোশাররফ হোসাইন। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে তিনি চরমেশাচরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা শোনেন।
ডাকাতিয়া নদীবেষ্টিত চরমেশাচর এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটাই নদীকেন্দ্রিক। কৃষিকাজসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত এখানকার মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম নৌকা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রতিদিন নৌকায় নদী পারাপার হতে হয়। এতে জরুরি প্রয়োজনে নানা ভোগান্তির পাশাপাশি সময় ও অর্থের অপচয় হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি একটি ব্রিজ নির্মাণ। তাদের মতে, চরমেশাচরের সঙ্গে মূল শহর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ স্থাপনে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহনও সহজ হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আলহাজ্ব মোশাররফ হোসাইন বলেন, চাঁদপুর পৌরসভার মধ্যে চরমেশাচরের মতো একটি জনপদ রয়েছে, এটি আমার জানা ছিল না। আপনাদের এখানে এসে বাস্তব চিত্র নিজের চোখে দেখলাম। আপনাদের চলাচলের প্রধান মাধ্যম নৌকা এটা সত্যিই কষ্টকর। ইনশাআল্লাহ, এখন থেকে আপনাদের খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করব এবং যেকোনো বিপদ-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা একটি এলাকার মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের অন্যতম শর্ত। চরমেশাচরের মানুষের দীর্ঘদিনের ব্রিজের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।
এ সময় তিনি এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি চরমেশাচরের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমরা বছরের পর বছর ধরে একটি ব্রিজের দাবি জানিয়ে আসছি। বর্ষা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে নৌকাই আমাদের একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নৌকায় পারাপার করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। একটি ব্রিজ হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের এই যোগাযোগ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে এবং চরমেশাচরও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
প্রতিবেদক: মুহাম্মদ বাদশা ভূঁইয়া,
১৬ আগস্ট ২০২৬