হেলে থাকা খুঁটিতে কভার্ডভ্যানের ধাক্কা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বহু প্রাণ
চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাস সড়কে একদিকে চলছে ব্যাপক সংস্কার কাজ, অন্যদিকে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে অব্যাহত রয়েছে ভারী ও বড় যানবাহন চলাচল। সংস্কার কাজ চলায় রাস্তা এমনিতেই সংকুচিত ও খানাখন্দে ভরা, তার ওপর সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। এই সংকুচিত পথ দিয়েই প্রতিদিন নিয়ম না মেনে চলছে বড় বড় কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক, যা যে কোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়।বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে এমনই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন শতাধিক পথচারী ও যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বাইপাস সড়কের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি বিপজ্জনকভাবে হেলে রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে একটি দ্রুতগামী বড় কাভার্ড ভ্যান সংকুচিত সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সজোরে ওই হেলে পড়া খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে তারে তারে শর্ট সার্কিট হয়ে স্ফুলিঙ্গ ছড়াতে থাকে এবং খুঁটিটি তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। বিকট শব্দ ও আতঙ্কে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। এসময় বিদ্যুতের একটি তার ছিড়ে মাটিতে পড়তেও দেখা যায়।
উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অল্পের জন্য একটি ভয়াবহ বড় দুর্ঘটনা ও গণমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো এলাকা। এসময় যদি ধাক্কা লাগা খুঁটির কারনে সবগুলো খুঁটি একদিকে হেলে পড়ে যেতো, তাহলো পুরো এলাকা জুড়ে শত, শত মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারতো।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সড়কের পাশে বিপজ্জনকভাবে হেলে থাকা এই বৈদ্যুতিক খুঁটি গুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি ও অভিযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
স্থানীয়দের দাবি সড়ক সংস্কার কাজ চলাকালীন বাইপাস সড়কে বড় ও ভারী যানবাহন যেমন ট্রাক, পিকাআপ, কাভার্ড ভ্যান, দশ চাকার ট্রাক চলাচল অবিলম্বে বন্ধ রাখতে হবে।
একই সাথে দুর্ঘটনাকবলিত ও হেলে পড়া বিদ্যুতের খুঁটিগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত বা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করতে হবে। তাছাড়া বর্তমানে সড়কে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ চলাকালীন খুঁটি গুলো মেরামত বা সোজা করলে সড়কের সংস্কার কাজ সমাপ্ত হলে তা আর পুনরায় মাটি খুঁড়তে হবেনা। তাই কাজ চলাকালীন সময়ে সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি সড়কের ওপর বা একদম গা ঘেঁষে স্তূপ করে রাখা নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে পথচারী ও অন্যান্য হালকা যানের জন্য জায়গা সুপ্রশস্ত করতে হবে।
সড়কের কাজের ধীরগতি এবং নিরাপত্তার চরম অভাব নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সর্বস্তরের মানুষের। অঘটন ঘটার আগেই বিদ্যুৎ বিভাগ ও সড়ক বিভাগের সমন্বিত পদক্ষেপে দ্রুত সমাধান চান সাধারণ মানুষ।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
২২ আগস্ট ২০২৬