হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ ব্যস্ততম সড়কের দু’পাশ ঝুঁকিপূর্ণ

চাঁদপুর জেলার অন্যতম ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়ক। প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ২০ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ। আঞ্চলিক এ সড়কের অধিকাংশ স্থানে দু’পাশের মাটি সরে যাওয়ায় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গতিরোধক না থাকায় গাড়িগুলো একটি অপরটিকে অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায় সময় দুর্ঘটনার স্বীকার হয়।

এ দুর্ঘটনার স্বীকার হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে সিএনজি ও অটোরিক্সা। এ যানবাহনগুলো দ্রুত গতি সম্পন্ন ও হালকা হওয়ার কারণে রাস্তা অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায় সময় উল্টে যায় অথবা একে অপরের সাথে সংঘর্ষ ঘটে।এতে গাড়িতে থাকা যাত্রীসহ রাস্তার পাশে পথচারিরা দূর্ঘটনার স্বীকার হয়ে থাকে। এ কারনে গাড়ি চালক ও পথচারীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদাসিনতাকে দায়ী করছেন।

দেখা যায়, হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ ২০ কি. মি. সড়কের জিয়ানগর, বেলচোঁ, সেন্দ্রা, মনতলা, চালিয়াপাড়া,  ফকির বাজার, ঘনিয়া, কাটাখালি, খলিফারদর্জা, কালিডাঙ্গা ও সোনাপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে যাত্রীদের গাড়ীতে উঠা নামা বেশী। কিন্তু প্রায় পুরো সড়কটির দুই পাশে মাটি না থাকায় এবং বাজার কেন্দ্রীক এলাকায় স-মিলের গুড়ি, ইট, বালুসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার কারনে যানবাহন চলাচলে পড়তে হয় বিপাকে।

অধিকাংশ স্থানে সড়কের দু’পাশে সড়কের অংশ থেকে পাশের রাস্তা মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান। বিভিন্ন স্থানে এক ফুট থেকে দেড়-দু’ ফুট পর্যন্ত ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়াও মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে গতিরোধক নেই।

এ ছাড়াও সড়কে চাহিদার তুলনায় গাড়ি বেশি চলাচল করা ও ছোট গাড়িগুলো দ্রুতগামী হওয়ায় কারণে দুর্ঘটনা এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সব দুর্ঘটনায় কেউ হারাচ্ছে প্রাণ আবার কেউবা পঙ্গুত্ববরণ করে অভিশপ্ত জীবন যাপন করছেন।

গত কয়েক বছরে মধ্যে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে হাজীগঞ্জে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন আকবর একাডেমী ও বট গাছ নামক স্থানে গাড়ি চাপায় পথচারীর  মৃত্যু।

বেলচোঁ বাজার, সেন্দ্রা হাজেরা আলী একাডেমীর সামনে একাধিক মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে। সড়ক সংস্কারের অভাবে মনতলা বাজার নামক স্থানে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

এসব দুর্ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী জিয়ানগরের ইসমাইল, বেলচোঁ বাজারের হাসান খাঁ ও মনতলা বাজারের মহিন শেখ, সম্রাট পাটোয়ারি, শাওন মিয়া বলেন, বড় বাস, কার্গো,  বালুর ট্রাক, মাইক্রো, সিএনজিসহ ছোট বড় শত শত যানবাহন চলাচল করে আসছে। সড়কের দু’ পাশে মাটি না থাকায়, আবার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
এসব বিষটি নজরদারির কথা সড়ক ও জনপদ বিভাগের। কিন্তু তার সময়মতো নজরদারি করছে না। সময়মতো নজরদারি করলে হয়তো দুর্ঘটনা অনেকাংশে কম হতো।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ সড়ক ও জনপদ উপ- বিভাগের অতিরিক্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কটি রানা ভিল্টার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। তাদের কাজের কিছু গাফিলতি আছে, কিন্তু যে পরিমান বালুবাহী ট্রাক লোড নিয়ে চলাচল করে এতেই সড়কের অস্তিত্ব দিন দিন হারাচ্ছে।

প্রতিবেদকঃ জহিরুল ইসলাম জয়, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

Share