ঈদের আনন্দে মুখর তিন নদীর মোহনা
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে ঘিরে আনন্দ-উৎসবে মুখর হয়ে উঠেছে চাঁদপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান তিন নদীর মোহনা বড়স্টেশন মোলহেড এলাকা।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে মানুষ উপভোগ করছেন মোহনার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাঁদপুর ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ভিড় করেন বড় স্টেশন মোলহেডে। কেউ নদীর পাড়ে বসে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন, কেউবা মোবাইল ফোনে স্মৃতিবন্দি করছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। অনেকে আবার ট্রলার ও নৌকায় করে ঘুরে আসছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে, যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলার ব্যস্ততা এবং নদীর ঢেউয়ের মৃদু শব্দ মিলিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নদীর মোহনায় বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে দেখা যায় অসংখ্য মানুষকে।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানিকগঞ্জের বাসিন্দা পারভেজুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে একটু ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটাতে চাঁদপুরে এসেছি। তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। এখানে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ঈদের ছুটিতে আবারো পরিবার নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।
কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা কলেজ শিক্ষার্থী মাহিম জানান, অনেকদিন ধরেই বড় স্টেশন মোলহেডে আসার ইচ্ছা ছিল। ঈদের ছুটিতে সুযোগ পেয়ে চলে এসেছি। নদীর মাঝখানে ট্রলারে ঘোরাঘুরি আর বালুচরে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা দারুণ।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, ঈদ কেন্দ্রিক মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় তিনটি টল টিম কাজ করছে। এছাড়া বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিন নদীর মোহনায় আলাদা একটি টিম রয়েছে। এছাড়া সড়কের প্রতিটি মোড়ে আলাদা ট্রাফিক টিম রয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে এবং ঘুরতে পারে এজন্য পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে।
প্রতিবেদক: শরীফুল ইসলাম
৩১ মে ২০২৬