Home / উপজেলা সংবাদ / হাজীগঞ্জ / হাজীগঞ্জে সাংবাদিক নির্যাতন মামলায় আটক দু’আসামীর জামিন না মঞ্জুর

হাজীগঞ্জে সাংবাদিক নির্যাতন মামলায় আটক দু’আসামীর জামিন না মঞ্জুর

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজের সংবাদ প্রকাশ করায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ফ্লিমি স্টাইলে তুলে নিয়ে মারধর করার ঘটনার মামলায় আটক ২ আসামীর জামিন মঞ্জুর করেনি আদালত।
বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চীপ জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামী পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদী পক্ষের আইনজীবী এপিপি মোজাহিদুল ইসলাম সাদ্দাম, এ্যাড. সাইফুল ইসলাম মোল্লা, এ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম, এ্যাড. রেজওয়ানুর রহমান শাওন, এ্যাড. সাজ্জাদুল বোরহান হৃদয়, এ্যাড. রেদওয়ানসহ আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করলে বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে জামিন না মঞ্জুর করেন।


উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলে নারীদের দিয়ে অনৈতিক ও অসামাজিক ব্যবসা পরিচালনার করে আসছে। গত ১৪ জুন পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন তার বাবা আনোয়ার হোসেন, হোটেলের ম্যানেজার রায়হান’সহ নারী পুরুষ আটক করে। এ ছাড়াও গত ১৩ জুন ওই হোটেলের একটি কক্ষ থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই বৃদ্ধের পরিচয় সনাক্ত হয়। এর পর আবারে ওই হোটেলের একটি কক্ষে মামা পরিচয়ে এক যুবক কচুয়ার এক কিশোরীকে কয়েক দফা ধর্ষণ করে, এসব ঘটনা চাঁদপুরের বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তার উপর ভিত্তি করে সাপ্তাহিক ত্রিনদী ফেসবুক পেজে একটি ডকুমেন্টারী ভিডিও তৈরী করে। ওই ভিডিও সংবাদ প্রকাশ করায় মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন, তার ছেলে তাওহীদ ও বাবা আনোয়ার হোসেন স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ১৬ জুন দুপর সাড়ে ১২টার দিকে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪র্থ তলায় প্রেসক্লাবে কর্মরত অবস্থায় সাপ্তাহিক ত্রিনদী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মহিউদ্দিন আল আজাদকে তুলে নিয়ে যায়।


আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশ খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে সংবাদমাধ্যমে কর্মরত আছেন।


খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স হাজীগঞ্জ বাজারস্থ হলুদ পট্টির ওই আবাসিক হোটেলের নিচতলা হাজী আনোয়ার মঞ্জিল থেকে সাংবাদিককে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন আল আজাদকে টেনে হেঁছড়ে ও মারধর করা অবস্থায় তুলে নেওয়ার বিভিন্ন স্থানের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মূহৃত্বেই ভাইরাল হয়ে যায়। এঘটনায় সচেতনমহল, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, অভিযুক্ত ২ জনকে আটক করা হয়েছে। অপর নামীয় আসামিকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত ও সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহিৃত করা হচ্ছে।


এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে আবাসিক হোটেল পরিচালনা করায় মঙ্গলবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন।


এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম উপস্থিত ছিলেন।

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি/ ১৮ জুন ২০২৬