চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এক ভাইকে দাফন করার শোক কাটতে না কাটতেই আরেক ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার রান্ধুনীমুড়া এলাকায় বিরাজ করছে শোকের আবহ।
জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া এলাকার শুকু কমিশনারের বাড়ির বাসিন্দা এবং হাজীগঞ্জ বাজারের সুপরিচিত মাছ ব্যবসায়ী শাহিন রোববার (২৮ জুন) ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি …. রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, ব্যবসায়ী সমাজ ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
জোহরের নামাজের পর মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। শেষ বিদায়ে আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—বড় ভাইকে দাফনের কয়েক ঘণ্টা পরই একই দিন রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তাঁর সহোদর আলমগীর হোসেনও ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
একই দিনে পরিবারের দুই সহোদর ভাইকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন জনি চৌধুরী বলেন, “একই দিনে পরিবারের দুই সহোদর ভাইকে হারানোর মতো এমন মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের এলাকায় খুবই বিরল। তাঁদের মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকাই শোকাহত।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, মরহুম শাহিন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও সজ্জন ব্যবসায়ী হিসেবে সবার কাছে সম্মানিত ছিলেন। অন্যদিকে আলমগীর হোসেনও ভদ্র, অমায়িক ও সদালাপী মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাঁদের পরপর প্রয়াণে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্টাফ করেসপন্ডেট/ ২৯ জুন ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur