চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ পরীক্ষায় উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৩১ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী। এদিকে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট ৬১০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার চারটি কলেজ থেকে ৪৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৬৪ জন। পাসের হার ৩২.৯৩ শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় উপজেলার তিনটি মাদ্রাসা থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৭ জন। পাসের হার ৮১.৭১ শতাংশ। তবে এ পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে ৪২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪৪ জন। পাসের হার ৩৪.০৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৪০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিলেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন কলেজ থেকে ৩৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১০ জন। পাসের হার ২৫.৬৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত ছিলেন ৪১ জন।
দুর্গাপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৫ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮ জন। পাসের হার ৩২ শতাংশ। সেখানে নিবন্ধিত ছিলেন ২৬ জন।
অন্যদিকে, মালেরহাট যুব সংঘ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৮.১৮ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত ছিলেন ১২ জন।
আলিম পরীক্ষায় মাদ্রাসাভিত্তিক ফলে দেখা যায়, গন্ডামারা আবুবকর ছিদ্দিকী ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২২ জন। পাসের হার ৭৮.৫৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত ছিলেন ২৯ জন।
আলগীবাজার আলিম (সিনিয়র) মাদ্রাসা থেকে ৩৬ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩২ জন। পাসের হার ৮৮.৮৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত ছিলেন ৪৩ জন।
এ ছাড়া কাটাখালী হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ১৩ জন। পাসের হার ৭২.২২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত ছিলেন ১৯ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলিম পরীক্ষায় পাসের হার এইচএসসির তুলনায় অনেক ভালো। তবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। বিশেষ করে কয়েকটি কলেজে পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে থাকায় উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।এই বিপর্যয় চিত্রের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কোন বিষয়গুলো ঘাটতি রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তীর্ণ পর্যালোচনা প্রয়োজন।
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসেন আসিফ/
৩১ অক্টোবর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur