চাঁদপুর সদর

চাঁদপুর বাহ্মণসাখুয়ায় ‘শর্টগান দেখিয়ে’ জমি দখল

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮ নং বাগাদী ইউনিয়নের বাক্ষ্মণসাখুয়ায় ‘শর্টগান দেখিয়ে’ জোর পূর্বক জায়গা দখল করার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) গভীর রাতে ওই এলাকার করে গো দোকান নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তেই ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসি জানায়, দখলকৃত সম্পত্তির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক দাবিদার কে এম আতিকুল কবির লাবু নামের এক ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে ওই শর্টগানটি নিয়ে এসে সেটি মানুষের সামনে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেন।

এতে সম্পত্তির প্রকৃত মালিকের পরিবারের লোকজন ভয়ে পালিয়ে গেলে এ সুযোগে তারা তারা নির্মিত দোকান এবং তার পাশের ৫০ শতাংশ জমি দখল করেন।

বাক্ষ্মণসাখুয়া গ্রামের মৃত নুরুল হক গাজীর ছেলে সাইফুল ইসলাম গাজী পৈত্রিক এবং খরিদসূত্রে ৫০ শতাংশ জমি প্রায় ৮১ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছেন। প্রায় মাস খানেক আগে উত্তর বালিয়া গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডস্থ আমির হোসেন খানের ছেলে নিজাম উদ্দিন খানের স্ত্রী অ্যাড. নাজমা আক্তার মুন্নি ও তার ভাই কে এম আতিকুল কবির লাবু ওই ৫০ শতাংশ জমি ওয়ারিস সূত্রে মালিকানা দাবি করেন। এ বিরোধ নিয়ে স্থানীয় চেয়াম্যানের মাধ্যমে তা মিমাংসা জন্য স্থানীয়ভাবে বসা হয়েছিলো।

জায়গার প্রকৃত মালিক সাইফুল ইসলাম গাজী ও তার ভাই শাহআলম সুলতান জানায়, তাদের সম্পত্তির এ বিরোধ মিমাংসার আগেই অ্যাড. নাজমা আক্তার ও তার ভাই লাবু রাতের আঁধারে অবৈধ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে তাদের ভোগ দখলকৃত সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করেন।

তারা আরো জানান, অ্যাড, নাজমা আক্তারকে যারা জায়গার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন, সে জায়গা এখানে নয়, তা অন্যখানে । কিন্তু তারা সেখানে তাদের জায়গা বুঝে না নিয়ে সাথে জোর করে জায়গা দখল করেছেন।

অভিযুক্ত অ্যাড. নাজমা আক্তার মুন্নির সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা যা মনচায় তাই লিখেন। আমি আইনের লোক, বহু থানার ওসি আমার কথা শুনে। আপনারা লিখে কি করবেন। পত্রিকায় লিখলে আমার কিছু যায় আসে না।’

অস্ত্র প্রর্দশনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ভাইয়ের ব্যবসার সিকিউরিটির জন্য লাইন্সেস করা অস্ত্র। এটা নিয়ে সে যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারবে।’

গ্রামে গিয়ে নিরহ মানুষের সামনে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করার কোন নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে চাঁঁদপুর মডেল থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘লাইন্সেস করা কোন অস্ত্র যে সিকিউরিটির জন্য নেয়া হয় তা শুধূ তিনি সেই কাজে স্বার্থে রাখতে পারেন। কেউ যদি সেটি অন্য কাজে ব্যবহার করেন, তাহলে সেটা আইনের আওতায় পড়ে না।’

এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর মডেল থানার এস আই সিরাজুল ইসলাম জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কোন ব্যাক্তি জায়গার প্রকৃত মালিক এবং কি ঘটেছে তা আইনী পক্রীয়াধীন আছে।

প্রতিবেদক- কবির হোসেন মিজি
: আপডেট, বাংলাদেশ ১০ : ০৩ পিএম, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭ বুধবার
ডিএইচ

Share