শীর্ষ সংবাদ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রী হয়েও ভুয়া কাগজে মাতৃত্ব ভাতা পাচ্ছেন ইউপি সদস্য

৩ বছর ধরে স্বামী বিদেশে, কিন্তু ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা ভোগ করছেন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার হাসিনা বেগম। ইউপি সদস্যের এমনকাণ্ডে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত হাসিনা বেগম ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা (পূর্ব) ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা (৪.৫.৬) ওর্য়াডের সদস্য ইউপি সদস্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা (পূর্ব) ইউনিয়নের প্রবাসী হারুনুর রশিদের স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা (৪.৫.৬) ওর্য়াডের সদস্য হাসিনা বেগম। স্বামী হারুন-অর রশিদ ২০১৫ সালে বিদেশ যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত দেশে ফিরে আসেননি। কিন্ত হাসিনা বেগমের মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার আবেদন পত্রে তার গর্ভধারনের তারিখ গত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ইং উল্লেখ আছে। ভাতা পাওয়ার ওই আবেদন পত্রে সুপারিশ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ।

গর্ভধারণের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন ওই ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভিজিটর মনিকা। এরইমধ্যে হাসিনা বেগম ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত ভাতা উত্তোলন করেছেন।

সরেজমিনে ইউপি সদস্য হাসিনা বেগমের বাড়িতে গেলে তার বড় ছেলে ৫ম শ্রেণির ছাত্র হাসানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা হারুন-অর রশিদ (৩বছর প্রবাসে) ও ছোট ভাই হোসেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। তারা দুই ভাই ছাড়া তাদের আর কোন ভাই-বোন নেই বলে সে জানায়।

এসর্ম্পকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভিজিটর মনিকা চাঁদপুর টাইমসকে জানান, ‘চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ সাহেব চৌকিদারের মাধ্যমে কাগজ পাঠিয়েছে এবং চেয়ারম্যান সাহেবের সুপারিশে আমি তাতে স্বাক্ষর দিয়েছি। আমার পাশের বাড়ির হাসিনার নামে যে এ দরখাস্ত তা আমি জানি না। একজন মেম্বার হয়ে নিজে এই ধরনের কাজ করতে পারেন তা ভাবতেই পারি না।’

এসর্ম্পকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা-মাকসুদা বেগম চাঁদপুর টাইমসকে জানান, ‘আবেদন পত্রে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সুপারিশের মাধ্যমে আমরা এই বইগুলি বিতরণ করে থাকি। কিন্ত একজন ইউপি সদস্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এ ধরনের কাজ করেছেন। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আর আবেদনপত্রে ইউপি চেয়ারম্যানের সুপারিশ খুবই দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদ চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, ‘আমি পূর্বে এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। আপনার কাছ থেকে শুনলাম। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব যাচাই-বাচাই করে আমার কাছে কাগজপত্র নিয়ে আসলে আমি তাতে সুপারিশ করে দেই।’

অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এনিয়ে কোন ধরেনের অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইউপি সচিব শহীদ পাটওয়ারী চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, ‘ওয়ার্ড মেম্বার ও স্বাস্থ্যকর্মীর প্রতিবেদনের ওপর আমরা চেয়ারম্যানের সুপারিশের জন্য কাগজপত্র উপস্থাপন করি। গর্ভধারণের প্রতিবেদন দেয় স্বাস্থকর্মী। এনিয়ে আমাদের কিছু করার থাকে না।’

অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইউপি সদস্যের মাতৃত্বকালীন ভাতা গ্রহণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমি মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর ওই ইউপি সদস্যকে টাকা ফেরত দিতে বলেছি।’

এবিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হাসিনা বেগমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

প্রতিবেদক- আতাউর রহমান সোহাগ
: আপডেট, বাংলাদেশ ৬: ০৩ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ মঙ্গলবার
ডিএইচ

Share