জাতীয়

র‌্যাবের সহায়তায় স্বাভাবিক জীবনে ৯ জঙ্গি সদস্য

জঙ্গিবাদের মতো উগ্র মতাদর্শ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ৯ জঙ্গি সদস্য। র‍্যাবের নতুন উদ্যোগ ডি-রেডিক্যালাইজশেন প্রক্রিয়ার আওতায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন তারা। আজ বৃহস্পতিবার র‍্যাবের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন।

র‍্যাব বলছে, বিশ্বের অন্য দেশের মতো জঙ্গিদের সঠিক প্রক্রিয়ায় ডি-রেডিক্যালাইজেশন করে জঙ্গিবাদ থেকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন তারা। দীর্ঘ সময় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের উগ্র আদর্শকে ধ্বংস করা হয়েছে। এমন ৯ জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছেন। এদের মধ্যে প্রকৌশলী-চিকিৎসক স্বামী-স্ত্রীসহ আছে নব্য ও পুরাতন জেএমবির সদস্যরা রয়েছেন।

আত্মসমর্পণ করা এক ব্যক্তিরা নাম শাওন মুনতাহা ইবনে শওকত। তিনি সিলেটের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে হিযবুত তাহরীরে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনের বিশ্ববিদ্যারলয় শাখার শীর্ষ পর্যায়ে চলে যান। ২০০৯ সালে আনসার আল ইসলামে যোগ দেন। তিনি ২০১১ সালে মেডিকেল শিক্ষার্থী নুসরাতকে বিয়ে করেন। স্ত্রী নুসরাতও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন। পরবর্তীতে সংগঠনের নির্দেশনায় তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ২০১৭ সাল থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অভিযানে গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিনি ঢাকাতে বিভিন্ন জায়গায় বাসা বদল করেন। একপর্যায়ে ঢাকার আশপাশের এলাকায় বসবাস শুরু করেন।

আরেকজন আবিদা জান্নাত আসমা (১৮)। উগ্রবাদে আকৃষ্ট হওয়ার পর পিতামাতার কাছে গোপন করে ২০১৮ সালে আনসার আল ইসলামের এক সদস্যের সাথে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শুরু হয় স্বামীর সাথে আত্মগোপনের জীবন। আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সন্তান হওয়ায় তিনি আত্মগোপনে থেকে ফেরারী জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। ফলে স্বজনের কাছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। শাওনের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত নেন।

এরকম ৯ ব্যাক্তি রয়েছেন যারা অন্ধাকার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন।

র‍্যাব বলছে, উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত প্রথম তিন ধাপের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়েছেন তারা। যখন কেউ জঙ্গি বা উগ্রবাদী হয়, তখন সে প্রথম দিনেই জঙ্গি হয়ে যায় না। ৫ ধাপ শেষ করে একজন ব্যক্তি পূর্ণ জঙ্গিতে পরিণত হয়। প্রথম ধাপে তারা ওই জঙ্গি সংগঠনের প্রতি সহমর্মিতা দেখায়। দ্বিতীয় ধাপে সে হয়ে যায় ওই সংগঠনের সমর্থক। তারপর সে হয় অ্যাক্টিভিস্ট। এ পর্যায়ে সে বিভিন্ন কার্যকলাপে অংশ নেয়। চাঁদা আদায় করে, দাওয়াত দেয়। তারপর সে হয় এক্সট্রিমিস্ট। নিজের ভেতর উগ্রবাদ ধারণ করে। শেষ পর্যায়ে গিয়ে সে পরিবার-জগত থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়। অস্বাভাবিক একটা জীবন যাপন শুরু করে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেন একাডেমিশিয়ান, ইসলামি স্কলার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিশিষ্ট নাগরিকেরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়া পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, সরকার জঙ্গিবাদ শুধু কঠোরহস্তে দমন করছে তাই নয়, পাশাপাশি ডিরেডিকালাইজশনের মাধ্যমে তাদের ভুল পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, জঙ্গিদের ভুল পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান করা হচ্ছে। তারা ফিরে এলে তাদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা হবে।

আত্মসমর্পণ করা জঙ্গিরা হলেন- ডা. নুসরাত আলী জুহি (২৯), আবিদা জান্নাত আসমা ওরফে রামিসা (১৮),শাওন মুনতাহা ইবনে শওকত (৩৪), মোহাম্মদ হোসেন হাসান গাজী (২৩), মো. সাইফুল্লাহ (৩৭), (৬) মো. সাইফুল ইসলাম (৩১), মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (২৬) মো. সাইদুর রহমান (২২), আবদুর রহমান সোহেল (২৮)। এসময় স্বরাষ্টমন্ত্রী ও আইজিপি জঙ্গিদের তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেন।

Share