কচুয়ায় সাবেক এমপি রফিকুল ইসলাম রনির মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চাঁদপুরের কচুয়ার সাবেক সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) মরহুম রফিকুল ইসলাম রনি’র ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে শুক্রবার ইউরোপিয়ান জাতীয়তাবাদী কচুয়া ফোরামের উদ্যোগে পালাখাল বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ জুমা নামাজ শেষে মরহুমের স্মরনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় পালাখাল বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মোস্তাফিজুর রহমান,আবুল কাশেম,রুহুল আমিন কবিরাজ,সমাজসেবক আব্দুল আল মামুন,মুয়াজ্জিন কামাল হোসেনসহ মসজিদের মুসল্লিগ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে অনুষ্ঠানটি সার্বিক সহযোগিতা করেন ইউরোপিয়ান কচুয়া জাতীয়তাবাদী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক জার্মান প্রবাসী মোয়াজ্জেম হোসেন মিয়াজী।

এছাড়া একই দিনে কচুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের মসজিদে সাবেক এই সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম রনি’র রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, কচুয়া উপজেলার ২নং পাথৈর ইউনিয়নের আটোমোড় গ্রামের অধিবাসী প্রয়াত শহীদ উল্যাহ মিয়াজীর সুযোগ্য সন্তান জনপ্রিয় সাবেক এমপি রফিকুল ইসলাম রনি তৎকালীন ১৯৯৮ সালে নির্বাচনী এলাকার সরাইল কান্দি গ্রামে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রান বিতরণ করতে গিয়ে অসুস্থ্য হয়ে ওইদিন মধ্যরাতে মারা যান।

মরহুম রফিকুল ইসলাম রনি’র নামে স্মৃতি ফাউন্ডেশন রয়েছে। মরহুম রফিকুল ইসলাম রনি ১৯৬০ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহন করেন। তার জীবনের শৈশব ও কৈশোর কাটে দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায়। তিনি ১৯৭৬ সালে এসএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৮৭ সালে শরীয়তপুরের কার্তিকপুর জমিদার বাড়ির তৎকালীন জমিদার খ্যাত নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর কন্যা ঢাবির মেধাবী ছাত্রী শামীমা ইয়াসমিনকে জীবন সঙ্গীনি করেন। তিনি ১ ছেলে ও ২ কন্যার জনক।

১৯৭৯ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য নির্বাচিত হয়। একই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সংসদ সদস্য আলফাজ উদ্দিনের সন্বয়ক হিসেবে অগ্রনী ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৭৯ সালে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী ছাত্রদলের ব্যানারে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সমাজকল্যান সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

১৯৮০ সালে একই কলেজের কিছু উশৃঙ্খল সন্ত্রাসীর হাতে মারাত্মক ভাবে হামলার শিকার হন। ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করেন এবং ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তৎকালীন সর্ব কনিষ্ঠ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কচুয়ার বিভিন্ন স্থানে রফিকুল ইসলাম রনি’র বক্তব্য শোনার জন্য তৎকালীন সময়ে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হতো এবং একাধিক স্থানে টিনের স্কুল ভেঙ্গে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে মরহুম রফিকুল ইসলাম রনি মৃত্যুর ২৩ বছর হলেও এখনো তাঁর একাধিক ভক্ত ও শোভাকাঙ্খী রয়েছে কচুয়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে।

প্রতিবেদক: জিসান আহমেদ নান্নু

Share