জাতীয়

‘সাজা ৫ বছর, হত্যা প্রমাণ হলে ৩০২ ধারায় ফাঁসি’

বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হলে বা কারো মৃত্যু হলে চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে সড়ক পরিবহন আইনের চূড়ান্ত খসড়ায়। তবে তদন্তে যদি দেখা যায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চালক বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাহলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাজা হবে ফাঁসি। তবে এটা তদন্ত সাপেক্ষে এবং তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্ধারণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সম্পূরক এজেন্ডা হিসেবে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানান।

গত বছরের ২৭ মার্চ খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর আইন মন্ত্রণালয় খসড়া আইনটি দ্রুত ভেটিং (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী জানান, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর শাস্তি সাত বছর নির্ধারণ করার সুপারিশ করেছিলেন কয়েকজন মন্ত্রী। কিন্তু তাঁদের থামিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের আইনে বেপরোয়া চালানোর কারণে দুর্ঘটনার শাস্তি ছিল তিন বছর। সেখান থেকে পাঁচ বছর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি বুঝে বা পরিস্থিতি আমলে নিয়েই করেছেন। আর বাড়ানোর দরকার নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী আইনটিকে মোবাইল কোর্ট আইনের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। দুই বছরের নিচের সাজার জন্য এ বিধান করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ফেসবুক সমস্যা করেছে—মন্ত্রীদের এমন মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আসলেই ফেসবুক একটা সমস্যা। যাচাই নাই, বাছাই নাই। পোস্ট দিয়ে দিলেই হলো। ব্যবহারকারীদের যাচাই করে পোস্ট দেওয়া দরকার। ফেসবুক একটা মুশকিলই।’

মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্ঘটনাসংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এই আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে কোনো ব্যক্তি আহত বা প্রাণহানি ঘটলে এসংক্রান্ত অপরাধ পেনাল কোডের (দণ্ডবিধি) ৩০২, ৩০৪ ধারা অনুযায়ী অপরাধ বলে গণ্য হবে।’ তবে দণ্ডবিধির কোন ধারায় মামলা হবে, তা তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন ‘এটা অবস্থার গুরুত্ব অনুযায়ী এভিডেন্স বেইজসড হবে। বোঝা যায় যদি সে স্বেচ্ছায় কাজটা করেছে, ভলান্টারিলি কাউকে সে পিষে দিল এ রকম ঘটনা, এটা পেনাল কোড বা সংশ্লিষ্ট ধারায় এর শাস্তি হবে। তদন্তে ডিসাইড (নির্ধারণ) হবে এটা কোন লাইনে যাবে, (দণ্ডবিধির) ৩০২ ধারায় হবে নাকি ৩০৪ ধারায়।’ তিনি বলেন, ‘তবে শর্ত থাকে যে পেনাল কোডে সংশ্লিষ্ট সেকশন ৩০৪ (বি)-এ যা কিছু থাকুক না কেন, ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত কারণে মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হলে বা তার প্রাণহানি ঘটলে ওই ব্যক্তি (চালক) সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

মন্ত্রিপরিষদসচিব আরো বলেন, চালকদের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের পাস হতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালাতে পারবে না। প্রস্তাবিত আইনে চালকের ভুলের জন্য ১২টি পয়েন্ট রাখা হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে এসব পয়েন্ট কাটা যাবে। পয়েন্ট এভাবে শূন্য হয়ে গেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে।

শফিউল আলম বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না, সিট বেল্ট বাঁধতে হবে, নারীদের আসনে অন্য কেউ বসতে পারবে না।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের ক্ষতিপূরণের জন্য একটি তহবিল থাকবে। সেটা পরিচালনার জন্য থাকবে একটি ট্রাস্টি বোর্ড। সরকার, চালক সমিতি, মালিক সমিতি মিলে এই বোর্ড গঠন করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার পর সব শ্রেণির সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতেই নতুন আইনে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর করা হয়েছে।

গতকাল মন্ত্রিপরিষদসচিব ব্রিফ করার সময় সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে সড়কসচিব বলেন, ‘বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে প্রাণহানির ক্ষেত্রে তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় ইনটেনশন (ইচ্ছাকৃত) ছিল তবে এর শাস্তি ৩০২ ধারা অনুযায়ী হবে, এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক নিরাপত্তার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কিলিং পর্যায়ে গেলেই শুধু ৩০২-এ যাবে।’

সড়কসচিব আরো বলেন, বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর শাস্তি সর্বোচ্চ চার মাসের জেল বা ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড। নতুন আইনে এ জন্য ছয় মাসের জেল ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন আইনে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি চালানোর শাস্তি ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড রাখা হয়েছে। বর্তমানে এই অপরাধের সাজা তিন মাসের জেল বা দুই হাজার টাকা জরিমানা। ফিটনেসবিহীন গাড়ির জরিমানা বর্তমানে সর্বোচ্চ তিন মাসের জেল বা দুই হাজার টাকা জরিমানা থাকলেও নতুন আইনে ছয় মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সড়কসচিব জানান, গাড়ির চেসিস পরিবর্তন, জোড়া দেওয়া, বডি পরিবর্তন করার শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড থেকে বাড়িয়ে এক থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সড়কের ত্রুটির জন্য দুর্ঘটনা হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী দায়ী হবেন কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, তাদের দায়ী করা হবে। কোনো সরকারি কর্মচারী তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অবহেলা বা ত্রুটিপূর্ণভাবে পালনের জন্য দুর্ঘটনা ঘটলে ওই কর্মচারীকে দায়ী করে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

অদক্ষ চালক নিয়োগ করলে মালিকদের সাজা হবে কি না জানতে চাইলে শফিউল বলেন, চুক্তি করতে হলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে, আর শ্রম আইন অনুযায়ী মালিক ও চালককে চুক্তিপত্র করতে হবে।

শফিউল জানান, নতুন আইন পাস হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। আর পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চাইলে বয়স হতে হবে ২১ বছর।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ব্যক্তি অপ্রকৃতিস্থ, অসুস্থ, শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম, মদ্যপ বা অপরাধী হলে সরকার তার ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে।

ভাড়ায় খাটে এমন যানবাহন, যেমন—লাশ বহনকারী ও সৎকারে নিয়োজিত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুল্যান্স ও রেকারগুলোকে রুট পারমিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে সমগ্র বাংলাদেশ বা যেকোনো এলাকার জন্য যেকোনো ধরনের মোটরযানের সংখ্যা নির্ধারণ করে দিতে পারবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের গাড়ির জীবনকাল প্রজ্ঞাপন দিয়ে সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারবে।

শফিউল আলম আরো বলেন, ‘চালক ও তার সহকারীদের যথাযথভাবে রেস্ট হয় না, তাদের সুবিধার জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্বারা শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মঘণ্টা ও বিরতিকাল নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে। নিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবশ্যিকভাবে সেই কর্মঘণ্টা বা বিরতিকাল মেনে চলতে হবে।’ মোটরযানের গতিসীমা, শব্দমাত্রা ও পার্কিংয়ের বিষয়ে আইনে বিস্তারিতভাবে বলা আছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে কেউ গাড়ি চালাতে পারবে না। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে চালকের সহকারী গাড়িতে অবস্থান করতে পারবে না। চালকের সহকারীদের যানবাহন চালানোর দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। সড়ক বা মহাসড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালাতে পারবে না।

প্রস্তাবিত আইনে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে জানিয়ে শফিউল বলেন, কোনো মোটরযান দুর্ঘটনায় কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা মারা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার উত্তরাধিকারী আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক ক্ষতিপূরণ বা চিকিৎসার খরচ পাবেন। এই সহায়তা তহবিল কিভাবে গঠন হবে আইনে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। ওই তহবিল পরিচালনায় ট্রাস্টি বোর্ড করা হবে। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি মোটরযানের মালিকের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদা, এই আইনের অধীনে জরিমানার অর্থ, মালিক সমিতির অনুদান, মোটর শ্রমিক ফেডারেশন বা সংগঠনের অনুদান বা অন্য যেকোনো বৈধ উৎস থেকে পাওয়া অর্থ নিয়ে এই তহবিল গঠন করা হবে।

শফিউল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট চালক ও তার সহকারীরা তাত্ক্ষণিকভাবে কাছের থানা এবং ক্ষেত্রমতো ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতালকে অবহিত করবে। আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষার্থে নিকটস্থ সেবাকেন্দ্র বা হাসপাতালে পাঠানো ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। পুলিশ দেশব্যাপী টোল ফি নম্বর প্রবর্তন করবে, যার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত মোটরযানের চালক ও তার সহকারী, মালিক, পরিচালক বা তাদের প্রতিনিধি বা অন্য কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রিসভা বৈঠকে শুরু থেকে চুপচাপ ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তবে বৈঠকের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার হার কমেছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংস্কার করার পর এ হার অনেক কমেছে।

সূত্র মতে, সড়কসচিব বৈঠকে জানান, প্রতিবছর গাড়ি রেজিস্ট্রেশন হয় বেশি। সে তুলনায় ড্রাইভিং লাইসেন্স পায় কম। এ কারণে একটা ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘দক্ষ চালক তৈরির জন্য আমরা একটা প্রকল্প নিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ চালককে দক্ষ করা হবে।’ তখন অন্য এক মন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ চালক তৈরি করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ না। তাহলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাজ কী?’ আরেকজন মন্ত্রী বলেন, ‘এক মন্ত্রণালয়ের কাজ অন্য মন্ত্রণালয় করলে এলোকেশন অব বিজনেসের দরকার কী?’ সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে আলোচনার সময় পূর্তমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো রাস্তায় ওয়েট মেশিন নেই। এ মেশিন আছে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে। ওই সময় সড়কসচিব জানান, কিছুদিনের মধ্যেই ৪০টি ওয়েট মেশিন দেশের বিভিন্ন হাইওয়ের পাশে বসানো হবে।

সূত্র মতে, বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী জানান, রাজধানীর রামপুরায় গতকালও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। তবে তা শুধু রামপুরা এলাকায় হওয়ায় অনেক মন্ত্রী স্বস্তি প্রকাশ করেন।

গতকালের বৈঠকে কৃষি বিপণন আইন অনুমোদিত হয়েছে।

মালিকের শাস্তি : প্রস্তাবিত আইনে কয়েকটি অপরাধের জন্য মালিকপক্ষের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ, শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণে ব্যর্থতা, যানবাহন ও যাত্রীর বীমা করতে ব্যর্থতা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা না করা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ : সব গণপরিবহনের জন্য কর্তৃপক্ষ সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে যাত্রী ভাড়ার হার এবং সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ বা পুনর্নির্ধারণ করবে সরকার। প্রস্তাবিত আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, মোটরযানের অভ্যন্তরেও দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন ব্যতীত কোনো গণপরিবহন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। মোটরযান মালিক, চালক, কন্ডাক্টর, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত দাবি করতে পারবে না। এসব কাজ করলে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মোটরযানের ফিটনেস : মোটরযানের ফিটনেস সনদ ব্যতীত বা মেয়াদ উত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ ব্যবহার করে বা ফিটনেসের অনুপযোগী গাড়ি, জরাজীর্ণ গাড়ি বা পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন চালানো যাবে না। এই ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

ট্যাক্স টোকেন : মোটরযান কর আইন ও এসংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী অব্যাহতিপ্রাপ্ত মোটরযান ব্যতীত অন্য কোনো মোটরযান ট্যাক্স টোকেন ছাড়া রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না। মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠানকে এই টোকেন নিয়মানুযায়ী সংগ্রহ করতে হবে। এটা না করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে।

বীমা : প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, মোটরযান মালিক বা প্রতিষ্ঠান বা পরিচালনাকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে মোটরযানের বা যাতায়াতকারী সব যাত্রীর এবং তৃতীয় পক্ষের জীবন ও সম্পদের বিমা করতে হবে। বীমা করা ব্যতীত মোটরযান চালানো যাবে না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের চিকিৎসা : আইনে সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের যারা আহত হবে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক, চালক ও হেলপার, কন্ডাকটরকে। নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসার ব্যয় তাদের বহন করতে হবে। এটা না করলে এক মাসের কারাদণ্ড অথবা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান করা হয়েছে আইনে।

শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণ : সরকার বা সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা মোটরযানের শব্দমাত্রা নির্ধারণ করবে। এই মাত্রার অতিরিক্ত কোনো শব্দ সৃষ্টি করলে চালক, মালিক বা প্রতিষ্ঠানকে তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

আদেশ পালন ও তথ্য প্রদানে বাধ্যবাধকতা : কোনো ব্যক্তি, চালক, শ্রমিক, মালিক, প্রতিষ্ঠান বা তাদের প্রতিনিধিকে এই আইনের অধীন কোনো তথ্য প্রদান বা কোনো কার্য করার জন্য কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে তা না মানলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে বাধ্য হবে।

পরিবেশদূষণ : পরিবেশ দূষিত হয় এমন মোটরযান রাস্তায় চালানো যাবে না। চালালে তিন মাসের কারাদণ্ডসহ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান করা হয়েছে।
কালের কণ্ঠ

Share