২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) এসেছে। এ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আজ বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান, প্রবাসীদের নগদ প্রণোদনায় আগের তুলনায় রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য বেড়েছে বলে জানালেন ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ব্যাংকিং সেবা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীরা এখন অতি দ্রুত সময়ে অর্থ পাঠানোর সুযোগে পাচ্ছে। ফলে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে তিন হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি। অবশ্য আজ পহেলা জুলাই ব্যাংক হলিডের কারণে দেশি-বিদেশি ৬০টি ব্যাংকের মধ্যে এখনও ১১ ব্যাংকের গত মঙ্গলবারের (৩০ জুন) প্রবাসী আয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। সেই তথ্য এলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়বে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল তিন হাজার ৩২ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল দুই হাজার ৩৯১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুই হাজার ১৬১ কোটি সাত লাখ ৩০ হাজার ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই হাজার ১০৩ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার ডলার।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, গত জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০১ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অবশ্য সদ্য বিদায়ী জুনের রেমিট্যান্স পুরো হিসাব এখন পাওয়া যায়নি। সেই হিসাব পেলে রেমিট্যান্স আরও কিছুটা বাড়বে।

অপরদিকে, গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭৫৬ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৯০ কোটি ছয় লাখ ৩০ হাজার ডলার।

চাঁদপুর টাইমস ডেস্ক/
১ জুলাই ২০২৬