মতলবের কেএফটি অভাবনীয় সাফল্য, পাশের হার ৯৮.৬৫
চাঁদপুর জেলা পর্যায়ে মতলবের কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৩ জন।গড় পাশের হার ৯৮.৬৫% ।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চাঁদপুর জেলার শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাফল্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। গড় পাসের হারে শীর্ষস্থান দখল করেছে মতলব দক্ষিণের কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল । জিপিএ ৫ এর দিক দিয়ে মোট শিক্ষার্থীর অনুপাতে এগিয়ে রয়েছে শহরের মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। তবে সর্বোচ্চসংখ্যক অর্থাৎ ২২১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে আল-আমিন একাডেমি। মতলব দক্ষিণ উপজেলা পর্যায়ে একই সঙ্গে গতবারের তুলনায় এবার ভালো ফলাফল করেছে মতলব জেবি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও মতলবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলথেকে ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। GPA-5 পেয়েছে ২৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩১ দশমিক ০৮ শতাংশ। পাসের হারে জেলার শীর্ষ চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ।
মাতৃপীঠের ২৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ১০৪ জন শিক্ষার্থী GPA-5 পেয়েছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মোট শিক্ষার্থীর অনুপাতে GPA-5 পাওয়ার হারে চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাতৃপীঠ শীর্ষে রয়েছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী নিয়ে অংশ নেওয়া আল-আমিনও ফলাফলে বড় সাফল্য দেখিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। GPA-5 পেয়েছে ২১৯ জন। সংখ্যার হিসাবে চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ। মোট পরীক্ষার্থীর ২৬ দশমিক ২৩ শতাংশ GPA-5 অর্জন করেছে।
হাসান আলী স্কুলের ২৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৯ দশমিক ২৭ শতাংশ। GPA-5 পেয়েছে ৫৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২৪ দশমিক ০৩ শতাংশ।
এদিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলবগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও মতলব জেবি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় গতবারের তুলনায় এবার ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।
মতলবগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মোট ২০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৮০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ১৮ জন শিক্ষার্থী GPA-5 অর্জন করেছে। অন্যদিকে মতলব জেবি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৫৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং GPA-5 পেয়েছে ২১ জন।
দুটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে উন্নতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন স্কুল দুটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.ইশমাম।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত তদারকি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ফলাফল উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।এরই ধারাবাহিকতায় গতবারের তুলনায় এবার এই দুই প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
সব মিলিয়ে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল এর হারে মাতৃপীঠ এবং মোট জিপিএ ৫-এর সংখ্যায় আল-আমিন এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি মতলব দক্ষিণের মতলবগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও মতলব জেবি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ফলাফলে উন্নতি শিক্ষা খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে ফলাফলে আরও উন্নতি সম্ভব এবং এতে করে মতলব তথা এলেমগঞ্জের হারানো গৌরব ফিরে আসবে।
প্রতিবেদক: মাহফুজ মল্লিক/
১১ আগস্ট ২০২৬