জাতীয়

শিক্ষানীতির ত্রুটি : মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অসম প্রতিযোগিতা

বিশেষ সংবাদদাতা | আপডেট: ০৬:৩০ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৫, বুধবার

মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অসম প্রতিযোগিতা চলছে। শিক্ষানীতির ক্রুটির কারণে সদ্য পাস করা এইচএসসির মেধাবী শিক্ষার্থীরা অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যায় সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষানীতির আওতায় একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পাস করে দুইবার মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

বিগত বছরের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে- প্রথমবারের চেয়ে দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অধিক সংখ্যায় মেধা তালিকায় ঠাঁই পান।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শতকরা ৪০ ভাগ ও দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে শতকরা ৬০ ভাগ সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে।

সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের চেয়ে দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারীরা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণের চেয়ে অনেক বেশি সময় পান। প্রস্তুতি সময়ের ব্যবধান প্রায় নয়মাস। ফলে সঙ্গতকারণেই দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বেশি সংখ্যায় সুযোগ পান। এ বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমানে দেশে ২৯টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ৩ হাজার ১৬২টি ও ৯টি সরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে ৫৩২টি আসন রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৬৬ হাজার ৯৮৭ জন অংশগ্রহণ করে। ভর্তি পরীক্ষায় বাধ্যতামূলকভাবে ৪০ নম্বর পাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে মাত্র ২২হাজার ৭শ’৫৯ জন ভর্তিযোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৪শ’৪৬ জন ছেলে ও ১১ হাজার ৩১৩ জন মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল।

চিকিৎসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি মেডিকেল কলেজে দেশসেরা শিক্ষার্থীরাই সুযোগ পেয়ে থাকে। কিন্তু দুই বছরের নিয়মের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী প্রথম দফায় ভর্তির সুযোগ পায়না। এটা দুঃখজনক।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গতবছরের ভর্তি পরীক্ষায় সরকারি মেডিকেল কলেজে প্রথম হয়ে যিনি ভর্তির হয়েছিলেন তার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১৮১ দশমিক ৫০ ও আর সর্বশেষে যিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান তিনি পেয়েছিলেন ১৫৮ দশমিক ২৫ নম্বর । অপরদিকে ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১৬৭ দশমিক ২৫ এবং সর্বনিম্ন ১৫২ দশমিক ৫০।

চাঁদপুর টাইমস : এমআরআর/২০১৫

Share