ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন
‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬।
নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং গ্রাউন্ডে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ, পাসিং আউট প্যারেড ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।
সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ড, পূর্বাচল, নারায়ণগঞ্জে পৌঁছালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক তাকে স্বাগত জানান। প্রধান অতিথি পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রথমেই বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং কেক কেটে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করে অভিবাদন মঞ্চে আরোহন করলে প্যারেড কমান্ডার ফয়সালুর রহমানের নেতৃত্বে পতাকাবাহী কন্টিনজেন্টসহ চারটি কন্টিনজেন্টের সদস্যরা তাকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন জ্ঞাপন করে। প্রধান অতিথি প্যারেড পরিদর্শন করেন। এরপর স্টেশন অফিসার, ফায়ারফাইটার, ড্রাইভার, ডুবুরি ও নার্সিং অ্যাটেনডেন্টদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ায় ট্রেনিং কমপ্লেক্সের পিও কাম অ্যাডজুটেন্ট সাইদুল আলম চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
শপথের পর বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে নির্বাচিত চৌকশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চৌকশ পদক এবং বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত হয়েছেন প্রধান অতিথি তাদের মধ্য থেকে ২০ জনকে পদক পরিয়ে দেন। এরপর স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। তিনি প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আরও আধুনিক, দক্ষ, মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে।
এরপর বক্তব্য প্রদান করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। সাফল্যের সঙ্গে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান। ফায়ারফাইটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বক্তব্যে বলেন, দুর্ঘটনা-দুর্যোগে আপনারা সবার পাশে সবার আগে উপস্থিত হন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে মানুষ আপনাদেরকে দুঃসময়ের বন্ধু মনে করেন। আমি মনে করি, কর্মপ্রচেষ্টার এই ধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে আপনারা মানুষের আরো আস্থাভাজন হয়ে উঠবেন।
এরপর প্রধান অতিথির ভাষণ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি ভাষণে অগ্নিদুর্ঘটনাসহ যেকোনো দুর্যোগে পেশাদারি মনোভাব, সাহস, ত্যাগ ও সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস জাতির আস্থা অর্জন করেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সকল দুর্যোগে বিপদে পড়া মানুষের পাশে প্রথম ছুটে যাওয়া ‘স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত’ এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের একটি গর্বের বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত।
সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও তিনি তার আন্তরিক সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ জাতীয় ধ্বনি দিয়ে মার্চ পাস্টের মাধ্যমে প্যারেড শেষ করা হয়। প্যারেড শেষে প্রধান অতিথি কনটিনজেন্ট সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশন পর্বে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। সবশেষ তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার সংস্থা প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের বিভিন্ন পদবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভলান্টিয়ার, ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পদবির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইনের গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ২০ মে থেকে ২২ মে তিন দিনব্যাপী সারাদেশে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
১৯ মে ২০২৬
এ জি