হাজীগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে শিশুকে বিক্রির চেষ্টা, পুলিশি হস্তক্ষেপে উদ্ধার

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নে লম্পট স্বামী গৃহবধূকে ঘরের ভিতরে আটকে রেখে ব্যাপক নির্যাতন ও মারধর এবং টাকার জন্য ৯ মাস বয়সী শিশুকে বিক্রি চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিতার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে বাকিলা গোঘড়া গ্রামের মিজি বাড়ি থেকে চাঁদপুর মডেল থানার এএসআই আলামিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূ আসমা আক্তার (২১) ও তার ৯ মাসের জোবায়ের নামে শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশ বাদির জিম্মায় তার মেয়েকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪ বছর পূর্বে চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার ১ নং ওয়ার্ড আবুল দেওয়ান খান বাড়ির ভাড়াটিয়া রিকশাচালক রফিক মুন্সির মেয়ে আসমার সাথে বাকিলা গোঘড়া গ্রামের মিজি বাড়ির সিরাজ মিজির ছেলে কবির মিজির বিয়ে হয়। কিন্তু লম্পট কবির মিজি এর পূর্বেও দুটি বিয়ে করে নির্যাতন চালিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। পূর্বের বিয়ের কথা গোপন রেখে প্রতারণা করে আসমাকে বিয়ে করে নিয়ে যৌতুকের দাবিতে বেদম মারধর ও নির্যাতন চালায়।

অসহায় বাবা জায়গা সম্পত্তি বিক্রি করে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ২ লাখ টাকা যৌতুক দেয়। তারপরেও কবির মিজি তার স্ত্রীকে নির্যাতন চালায় ও দেড় বছর যাবত তার বাবার বাড়িতে আসতে ও যোগাযোগ করতে দেয়নি।

নির্যাতিতা আসমার মা মর্জিনা বেগম জানায়, কবির মিজি প্রতারণা করে পূর্বের বিয়ের কথা গোপন রেখে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে। যৌতুকের টাকা দেওয়ার পরেও আরো টাকা নেওয়ার জন্য মেয়েকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।

বুধবার মেয়েকে বেদম মারধর করে ঘরে আটকে রেখে তার শিশুকে বিক্রি করে দিবে বলে হুমকি দেয়।

তিনি জানান, মেয়ের শ্বশুর বাড়ি জনৈক এক ব্যক্তি ফোন করে এই ঘটনাটি জানালে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে মেয়ে ও নাতিকে উদ্ধার করে আনা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও তারা মেয়েকে আটকে রাখার চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়।

পুলিশ সময়মত মেয়েকে উদ্ধার না করলে তাকে মেরে টাকার জন্য তার শিশু সন্তানকে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল। এ ঘটনায় লম্পট কবির মিজির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাই।

সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেট, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

Share