সামিরা মেহনাজ নুসরাত চাঁদপুরের নাজিরপাড়া এলাকার এক উজ্জ্বল প্রতিভা, যিনি অল্প বয়সেই মেধা, সৃজনশীলতা ও বহুমুখী সাফল্যের মাধ্যমে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ২০০৮ সালের ১৬ মে চাঁদপুর সদর উপজেলার নাজিরপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা মো. শাহজাহান আহমেদ এবং মাতা মোসা. মোবাশ্বেরা আক্তার। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল সামিরার। গল্প ও কবিতা লেখায় তিনি বিশেষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আর সেই অনুরাগই আজ তাকে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লেখক হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
তিনি প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন চাঁদপুর মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে শেষ করেন মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজ-এর একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ, জাতীয় সাপ্তাহিক অরুণোদয়সহ চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানীয় ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে কাব্য, কল্পনার দেশ, বাস্তব বড় কঠিন, আজ নয় কাল, পাখি, রোজার নূর, নাজাতের ঘ্রাণ; গল্প একজন মা ও তানিয়া; ছোটগল্প সোসাইটি, শীতের অপেক্ষায়, প্রিয় বন্ধু কাঠগোলাপ এবং প্রবন্ধ মায়ের ঈদ — আনন্দ, নীরব আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার উৎসব।
শিক্ষা, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সামিরা ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে আসছেন। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন। ২০২৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন। এছাড়া চ্যানেল আই আয়োজিত বাংলাবিদ প্রতিযোগিতায় ২০২৪ সালে কুমিল্লা অঞ্চলের অন্যতম সেরা বাংলাবিদ হিসেবে স্বীকৃতি পান। পাশাপাশি তিনি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার রচনা প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য অর্জন করেন। তাঁর এই ধারাবাহিক অর্জন ইতোমধ্যে চাঁদপুরবাসীর কাছে গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সামিরা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, নতুন কিছু শেখার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। পরিবার, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা না পেলে এতদূর আসা সম্ভব হতো না। প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে নিয়মিত পরিশ্রম, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস। আমি সবসময় চেষ্টা করি নতুন কিছু শিখতে, নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে।
তিনি আরও বলেন, “বিজ্ঞান আমার কৌতূহলকে জাগিয়ে রাখে আর সাহিত্য আমার অনুভূতিকে প্রকাশের পথ দেখায়। এই দুই ধারাকে একসাথে ধারণ করেই আমি সামনে এগোতে চাই। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রাখতে চাই, যেন জ্ঞান ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক কিছু করতে পারি।” সর্বশেষ তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, “আমি যেন আমার স্বপ্ন পূরণের পথে সততা, পরিশ্রম ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে পারি—সেজন্য সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি।”
প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
১৫ এপ্রিল ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur